সরিষা গ্রাম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রবিশস্য। শীতকালে সরিষা খেতে হলুদ রঙের সরিষার ফুল ফোটে। পুরো গ্রামাঞ্চলের ফসলের মাঠগুলো যেন স্বপ্নের মতো সুন্দর হয়ে ওঠে। ফুলের মিষ্টি সুবাস সবকিছুকে মনোমুগ্ধ করে তোলার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেও বৃদ্ধি করে। সরিষা ফুলের সমারোহে পাল্টে গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন ফসলের মাঠের দৃশ্যপট।
শীতের শিশির ভেজা সকালে ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠজুড়ে চোখে পড়ে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে প্রকৃতির রং ও মাঠের দৃশ্য। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ মৌসুমে ব্যাপক সরিষার চাষ করা হয়েছে। সরিষার সবুজ গাছের ফুলগুলো শীতের সোনাঝরা রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। এ যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের দৃশ্য। দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতি কন্যা সেজেছে গায়ে হলুদ বরণ সেজে। মৌমাছির গুনগুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে উড়ে বেড়ানোর এক অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। যা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।
সরজমিনে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ আমতলী এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। বিশেষ করে সড়কের ধারে সরিষা ক্ষেতগুলো প্রাকৃতিক এমন দৃশ্যের সাথে মোবাইল ফোনে ছবি তুলতেও দেখা যায় অনেককে
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সচরাচর আমন ধান কর্তনের পর প্রায় ৩ মাস এমনিতে পরে থাকে জমি। এই সময়ের মধ্যেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ও সরিষা চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরোধানের ভালো হয়। এছাড়াও ৫০ শতকে ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষে প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয় ও ফলন হয় ৭-৮ মণ পর্যন্ত। এতে প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা সরিষা বিক্রয় করতে পারেন কৃষকরা। বর্তমানে ফসলের অবস্থা দেখে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা।
সদর উপজেলার কৃষক রাজু মিয়া বলেন, সরিষা আবাদ করতে বেশিদিন সময় লাগে না। মাত্র ৭৫-৮৫ দিনের মধ্যে এই ফসল হয়ে যায়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষ করতেও খরচ কম হয়। এক বিঘা জমিতে ১০ হাজার টাকা হলেও হয়। তাছাড়াও সরিষা চাষের ফলে জমিতে সরিষা গাছের পাতা পরে সেগুলো সার হয়ে যায় ও মাটিকে বেশি করে উর্বর করে। তাই সরিষা তোলার পরে অন্য ফসলও ভালো হয়।
আব্দুর কুদ্দুস নামে আরেকজন বলেন, আমন ধানের পরে আগে এই সময় এমনিতেই জমি গুলো পরে থাকতো। গত কয়েক বছর ধরে জমি ফেলে না রেখে সরিষা আবাদ করছে অনেকে। তাতে সরিষা উঠার পরেও আবার বোরো ধান করতে পারছে। অল্পসময়ের এই ফসলে মোটামুটি ভালো লাভবান হওয়া যায়। এতে যেমন কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে তেমনি অন্যদিকে দেশে তেল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ জেলায় বিশেষ করে বারি সরিষা ১৪, ১৫, ১৭সহ নতুনভাবে বারি ২০ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মেতে প্রণোদনার আওয়াত ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি উপজেলায় ১৬ হাজার কৃষকে সরিষার বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আলুর দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা আলু চাষে বেশি করে ঝুঁকছেন। তাই গত বছরের তুলনায় এবছর সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা একটু কম অর্জিত হয়েছে। তবে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় আবাদ বেশি হয়েছে।
গত বছর ১৯ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। এবার ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ১৬ হাজার ২২৫ হেক্টর। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৫ হাজার মেট্রিকটন। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিকটন সরিষা।
বিডি প্রতিদিন/এএম