সরিষা ফুলের হলুদ গালিচায় ছেয়ে গেছে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার বিস্তৃত মাঠ। শীতের হালকা বাতাসে সরিষা ক্ষেতের সোনালি ফুলের দোলা কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। যত দূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ।
মাঠজুড়ে এই সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতিকে নয়, কৃষকের হৃদয়কেও ছুঁয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষককে জাগিয়ে তুলছে নতুন আশা। সেই সঙ্গে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এ বছর ঝিনাইদহ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলায় সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭শ’ ৭০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ১শ’ ২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ৪৬ শতকের বিঘায় কৃষকরা ১০ থেকে ১১ মন করে ফলন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনাইদহ সদর, হরিণাকুন্ডু, কালীগঞ্জ, কোটচাদপুর এবং মহেশপুরের কৃষকরা জানান, সরিষা আবাদে খরচ কম। অল্প সময়ের মধ্যে আবাদ সম্পন্ন করা যায়। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। যে কারণে সরিষার কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া ভাল থাকায় এবার বাম্পার ফলন হবে।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, এবছর চলতি মৌসুমে জেলায় বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-১, বিনা সরিষা-১০, বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৭ ও বারি সরিষা-১৮ চাষ করা হয়েছে। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর কৃষকদের পর্যাপ্ত সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। ফলন ভাল পেতে আমরা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সঙ্গে সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু চাষ করা হচ্ছে। এতে যেমন সরিষার ফলন বাড়ছে তেমন মধু উৎপাদন হচ্ছে। আমরা এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সরিষা হবে বলে আশা করছি। সরিষার বাম্পার ফলন হলে স্থানীয় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে দেশের তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা