চীনের চন্দ্রযান চাংই-৬ এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে দেশটির মহাকাশ গবেষণার বিজ্ঞানীরা চাঁদের অদেখা (অন্ধকার) অংশ থেকে সংগৃহীত শিলার নমুনাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইঙ্গিত দেয় যে, প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগে চাঁদের চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তিতে অপ্রত্যাশিতভাবে পুনরুজ্জীবন ঘটেছিল। যদিও এটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো মিশনের আগের অনুসন্ধানগুলোর সঙ্গে অনেকটা বৈপরীত্য মতামতের সৃষ্টি করেছে, যেখানে বলা হয়- চাঁদের চৌম্বক ক্ষেত্র ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন বছর আগে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। সে থেকে এটি একটি নিম্ন-শক্তি অবস্থায় রয়েছে।
২০২৪ সালের ২৫ জুন, চীনের চন্দ্রযান চাংই-৬ এর সংগৃহীত নমুনাগুলোর বিশ্লেষণ সম্পর্কে Nature জার্নালে প্রকাশিত তথ্য হলো- চাঁদের অন্ধকার অংশ প্রথম প্যালিওম্যাগনেটিক তথ্য চিহ্নিত করে। এটি চাঁদের ডায়নামোর মধ্যবর্তী বিবর্তনের পর্যায়গুলো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। Guangming Daily জানিয়েছে, ডায়নামো সেই ভূ-ভৌত প্রক্রিয়া, যা অতীতে চাঁদের চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে।
২০২৪ সালের ২৫ জুন, চীনের চন্দ্রযান চাংই-৬ চাঁদের অন্ধকার অংশ (অন্বেষণ না করা দূরবর্তী পাশ) থেকে সংগৃহীত ১,৯৩৫.৩ গ্রাম চন্দ্র নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
চীনের একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জিওলজি অ্যান্ড জিওফিজিক্স (IGG)-এর প্রতিনিধি এবং গবেষণাপত্রটির লেখক- কাই শুহুই বলেন, পৃথিবীর একটি ‘চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপাদক’ রয়েছে। যা পৃথিবীর তরল বাইরের কোরে প্রবাহিত তরলের গতিবিধির মাধ্যমে কাজ করে। এটি একটি ‘জেনারেটরের’ মতো কাজ করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। ফলে সেটি পৃথিবীকে একটি সুরক্ষামূলক ঢালের মতো আবৃত করে। এই চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং বাসযোগ্যতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো যেমন- বায়ুমন্ডল ও পানি সংরক্ষণ করে, যা জীবনের বিস্তারের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে।
একসময় চাঁদেরও একই ধরনের ‘চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপাদক’ ছিল, যা অনেক আগে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো মিশন থেকে সংগৃহীত নমুনার ভিত্তিতে প্রাচীন চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তির গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৪.২ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগের মধ্যে চাঁদে একটি সক্রিয় ‘উৎপাদক’ ছিল, যা চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করত। কিন্তু প্রায় ৩.১ বিলিয়ন বছর আগে এই চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং ১.৫ থেকে ১ বিলিয়ন বছর আগে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে এটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
Guangming Daily-এর প্রতিবেদন অনুসারে, IGG-এর এই গবেষণা চাঁদের প্রাচীন চৌম্বক ক্ষেত্র সম্পর্কে মানুষের দ্বারা প্রাপ্ত প্রথম তথ্যই নয় বরং এটি চাঁদের চৌম্বক ক্ষেত্রের বিবর্তন বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
তথ্যসূত্র : গ্লোবাল টাইমস