ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও ভারতের লড়াইয়ে গুরুত্ব থাকে আলাদা। যদিও জয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে। দুই দেশের ফুটবল ম্যাচ ঘিরেও উত্তেজনা থাকে অন্যরকম। একসময়ে সাফ গেমস ও সাফ ফুটবলে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচ হলে যেন বারুদ জ্বলে। বাস্তবতা হচ্ছে যতই উত্তেজনা থাকুক জয়ের পাল্লা ভারতের অনেক ভারী। আগে ম্যাচের আগে চোখ বন্ধ করে ভারত ছিল ফেবারিট। এটা ঠিক অধিকাংশ ম্যাচেই ভারত জিতেছে। তবে বড় ব্যবধানে জিতেছে এর সংখ্যা খুবই কম। ২-০, ১-২, ১-০, ৩-২ বড়জোর ৩-০। দেখা গেছে ভালো খেলেছে বাংলাদেশ অথচ জিতে মাঠ ছেড়েছে ভারত।
কলকাতা সল্টলেক স্টেডিয়ামে দুই দেশের শেষ লড়াইয়ে কী দুর্দান্ত ফুটবলটাই না খেলেছিল বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ার নিখুঁত ক্রসে সাদউদ্দিন চমৎকার হেডে গোল করে কলকাতার গ্যালারি কাঁপিয়ে দেন। লাল-সবুজরা যেভাবে উড়ছিল তাতে জয় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। দুর্ভাগ্য কাকে বলে, শেষের দিকে ভারত গোল করে হার বাঁচায়।
ফুটবলে বাংলাদেশ ও ভারতের লড়াই গুরুত্ব হয়ে উঠে ১৯৮৫ সাল থেকে। সেবার ঢাকা সাফ গেমস ফুটবল ফাইনালে দুই দেশ মুখোমুখি হয়। আসলামের গোলে এগিয়েও যায় বাংলাদেশ। শেষের দিকে গোল হজম করলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। আফসোস এখানেই সোনা হাতছাড়া হয়ে যায়। ভারতের বিপক্ষে অসংখ্যবার দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। হয় রক্ষণের ভুলে গোল খেয়েছে, না হয় ফাঁকা নেট পেয়েও গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতের জয়ের পাল্লা ভারি হয়েছে এভাবে। একতরফা খেলে জয় পেয়েছে এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে কমই।
যাক অতীত ঘেটে লাভ নেই। আসছে মঙ্গলবার কী করবে সেটাই বড় প্রশ্ন। শিলংয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে ভারতের বিপক্ষে। ভারতের মাটিতে জয় পাওয়াটা স্বপ্নই বলা যায়। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বাস এ স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নেবে। ভারত জয় করে দেশে ফিরবে ফুটবলাররা। আসলে হামজা দেওয়ান চৌধুরীকে ঘিরেই যত আশা। তবে হামজা যে পজিশনে খেলেন তাতে গোল করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তার পরও হামজাতেই জয়ের আশা। ভারতের কোচ মানালো মার্কেজ বলেছেন, ‘ফুটবল এগারো জনের খেলা। এখানে একার পক্ষে অসম্ভবকে সম্ভব করা কঠিন। তবে খেলোয়াড়টা যে হামজা তাতেই তো যত ভয়।
মানালো বলেছেন, ‘হামজা এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেন না। তবে ও যে উঁচুমানের খেলোয়াড় তা তো স্বীকার করতেই হবে। সত্যি বলতে কী হামজামানের খেলোয়াড় ভারতে নেই। সুতরাং সামাল দিতে হলে সেরাটা দিতে হবে।’ কোচ মানালো কথাটি সরাসরি বলেননি। তবে হামজার প্রশংসা করে আকার-ইঙ্গিতে ভারতীয় মিডিয়াকে বুঝিয়েছেন ২৫ মার্চ ম্যাচ ড্র হলে তিনি সন্তুষ্ট থাকবেন।
জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ মো. আসলাম বলেছেন, ‘ভারতকে দুর্বল ভাবাটাও ঠিক হবে না। রাহুল ডেকো, লিস্টনকোলসো নাওরেমসিং, বেল্ডন ফার্নান্দেজ, ফারুক চৌধুরীর মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন।’ এটা ঠিক হামজার মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ভারত প্রথমবার লড়বে। আবার এটা ঠিক আইলিগের মাধ্যমে ভারতীয়রা ভালোমানের বিদেশিদের সঙ্গে লড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে।’ আমি বলব এটা তাদের প্লাস পয়েন্ট। তাই বলব অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে মাঠে নামা ঠিক হবে না।’