অনেকে গরম আবহাওয়াকে ঘৃণা করলেও প্রচণ্ড তাপে দীর্ঘসময় ধরে থাকা মানুষের বার্ধক্যকে বাড়িয়ে দিতে পারে বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত গরমের মধ্যে থাকেন এমন পরিবেশ তাদের খিটখিটে, ক্লান্ত, ঘামওয়ালা ও অস্বস্তিকর করে তোলার পাশাপাশি শারীরিক বার্ধক্যকেও বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ বছরের বেশি বয়সী তিন হাজারেরও বেশি মানুষের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া’র গবেষকরা। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের তাদের অঞ্চলের তাপ সূচকের সঙ্গে তুলনা করার আগে তাদের জৈবিক বয়স অনুমান করতে ‘এপিজেনেটিক ওয়াচ’ নামের একটি জৈব রাসায়নিক পরীক্ষা ব্যবহার করেছিলেন গবেষকরা।
জেরন্টোলজিস্টরা (যারা বার্ধক্য নির্ধারণ করেন) বলছেন, অ্যারিজোনার মতো অত্যন্ত উষ্ণ রাজ্যে বসবাসকারী মানুষের জৈবিক বয়স ওয়াশিংটন রাজ্যের মতো শীতল অঞ্চলে বসবাসকারীদের চেয়ে বেশি। ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাকে ‘অত্যন্ত গরম’ বলে চিহ্নিত করেছেন তারা এবং বলেছেন, বছরে একশ ৪০ দিনেরও বেশি এই আবহাওয়ায় বাস করলে এখানকার বাসিন্দাদের জৈবিক বয়স ১৪ বছর পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এ গবেষণার সহ-লেখক ইউন ইয়ং চোই বলেছেন, বিভিন্ন জনসংখ্যার উপর চরম তাপের প্রভাব দেখা গেছে, যেখানে “বয়স, লিঙ্গ, জাতি, শিক্ষার মতো অন্যান্য বিভিন্ন কারণ দেখার পরেও আমরা তাপের এই মাত্রাটি পেয়েছি, যার তুলনা চলে ধূমপানের প্রভাবের সঙ্গে।” গরম অঞ্চলে অল্প সময়ের জন্য বসবাসকারী মানুষের ক্ষেত্রে বয়স বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্থায়ী হলেও চরম তাপে দীর্ঘসময় থাকার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নাও হতে পারে বলেছেন ইউন।
তিনি আরও বলেছেন, “এই চরম তাপের বিভিন্ন প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে ধরতে পারা যাবে এমন স্বাস্থ্যগত অবস্থা দেখা দিতে নাও পারে। তবে দেহের কোষ পর্যায়ে বা আণবিক স্তরে এগুলো নীরবে ক্ষতি করে চলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ অবক্ষয় দেহে জমা হবে এবং কয়েক বছর পরে এই অবক্ষয় বড় কোনো রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে মানুষকে।”
‘হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ’-এর ‘সোশ্যাল এপিডেমিওলজি’ বিভাগের অধ্যাপক ন্যান্সি ক্রিগার বলেছেন, এটি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ গবেষণা’। কারণ গবেষণায় উল্লেখ করা অনেক রাজ্যে সবচেয়ে উষ্ণ দিনও রয়েছে এবং “এমন কিছু রাজ্যও আছে, যেখানে বসবাসকারীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা অনেক খারাপ।”
অধ্যাপক ক্রিগার এ গবেষণায় জড়িত ছিলেন না। তবে এ গবেষণায় জৈবিক বার্ধক্যকে প্রভাবিত করতে পারে এমন জীবনধারার বিভিন্ন কারণ বিবেচনা করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক ক্রিগার।
তথ্য সূত্র - সায়েন্স ডেইলি।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ