গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের বিতর্কিত করা যাবে না।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের আলী স্কুল মাঠে গণ অধিকার পরিষদ আয়োজিত এক সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্রনেতার গত কয়েক দিনের বক্তব্য পুরো জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
একজন কথা বলছেন, আরেকজন বলছেন, না এভাবে হয় নাই। আরেকজন বলছেন, তাদের দুজনের একজন মিথ্যা কথা বলছেন। দায়িত্বশীল ছাত্রনেতাদের অনুরোধ করব—আপনারা দায়িত্বশীল কথা বলুন। এমন কোনো কথা বলবেন না, যেটা একটা সংকটকে উসকে দেবে, ষড়যন্ত্রকারীদের ফায়দা লোটার রাস্তা করে দেবে।’
তিনি বলেন, ‘গণ-আন্দোলনে ছাত্র ও তরুণদের ভূমিকা ছিল। তারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজত, খেলাফতের লোকজনও নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে, লাঞ্ছিত হয়েছে। এর পরও হাসিনার সঙ্গে আপস করেনি। রাজনৈতিক নেতাদের এই আপসহীন লড়াই এই প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দল-মত-নির্বিশেষে আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। ফলে গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এই আন্দোলনে আলেম-ওলামা এবং প্রশাসনের একটা বড় অংশ শেষ দিকে আমাদের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। সেনাবাহিনীও এক পর্যায়ে জনগণের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। কাজেই সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশকে কখনোই বিতর্কিত করা যাবে না। এগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। যারাই আমরা সরকার গঠন করি, সে সময় রাষ্ট্র চালাতে এদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। যারা এসব প্রতিষ্ঠান কলঙ্কিত করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে। তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য যার যার জায়গা থেকে আমরা আওয়াজ তুলব। তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মান রক্ষা করাও কিন্তু আমাদের দায়িত্ব।’
নুর আরো বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের উত্তরণের জন্য মতের ভিন্নতা থাকলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তবে বাতিল মাল আওয়ামী লীগকে নিয়ে নয়। এই দল নিয়ে কোনো আলোচনা তো নয়ই, নির্বাচনও করা যাবে না। তারা গত ১৬ বছরে আমাদের ওপর অনেক বর্বরতা চালিয়েছে। ভিন্নমতের কাউকে ঘরেও থাকতে দেয়নি। সুতরাং তাদের নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা নয়। তবে আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোও এর মধ্যে চলবে।’
একই অনুষ্ঠানে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ‘দেশের সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি ঠিক নয়। এই সেনাবাহিনী গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
চাঁদপুর জেলা গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি কাজী রাসেলের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিম।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল