বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি বড় নাজুক। আইন-শৃঙ্খলার দিক থেকে কয়েকদিনে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি। গণতন্ত্র ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ছয় থেকে সাত মাসে বাজার সিন্ডিকেটের অসম্ভব কষাঘাত, বেকার ছাত্রদের কাজ না পাওয়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
সোমবার বিকালে রংপুর নগরীর দর্শনা বাছিরন নেছা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনও আমরা সরকারের পদত্যাগ দাবি করিনি। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি উন্নতি না হলে মানুষ এই অবস্থা সহজভাবে মেনে নেবে না। বিএনপির কর্মীরা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ১৭ বছর শহীদ হয়েছে, নিগৃহীত হয়েছে, জেল খেটেছে, নিমর্মতার শিকার হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এ ভূ-খণ্ডকে মানুষের বসবাস উপযোগী করার পদক্ষেপ সরকার নেবে বলে প্রত্যাশা করছি।
তিনি বলেন, ঘরে এসে মানুষকে কুপিয়ে যাচ্ছে হত্যা করছে। বাসে মেয়েরা লাঞ্ছিত, নিগৃহীত হচ্ছে। ঢাকাসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা যখন প্রতিবাদ জানায়, সুরাহা চায় তখন মধ্যরাতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। এতে আমরা বুঝতে পারি, দেশের অবস্থা কতটা ভয়াবহ।
মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু’র সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাকিব মাসুদ, ব্যবসায়ী তৌহিদ হোসেন আশরাফী।
আলোচনা সভার আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত