গোপালগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর স্কুলছাত্র আবু তালহা মুহিন মোল্লার লাশ পাওয়া গেছে ট্রাংকের ভিতর বস্তাবন্দি অবস্থায়। গতকাল ভোরে ট্রাংকসহ লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মুহিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাঞ্জারুল ইসলাম মঞ্জু মোল্লার ছেলে। তাদের বাড়ি চন্দ্রদিঘলিয়া উত্তর চরপাড়া গ্রামে। মুহিন রাবেয়া আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, গত শনিবার সকালে বাড়ির পাশের দোকানে জুস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মুহিন। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরদিন রবিবার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভাড়াটিয়া আমিন, ওই গ্রামের শাওন, ইসান ও সিহাবকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ভোররাতে আমিনের ঘর থেকে বস্তায় বেঁধে ট্রাংকে আটকে রাখা মুহিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমিনের মা শাহানারা বেগমকে আটক করা হয়। পুলিশের ধারণা, শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তায় বেঁধে ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে কেন হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মুহিন মোল্লার চাচা ওলিয়ার রহমান মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, মুহিনের বাবা মঞ্জু মোল্লা ইউপি মেম্বার ও ইটভাটা মালিক। তার অনেক টাকা আছে। তাই তার ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করার উদ্দেশ্যে মুহিনকে অপহরণ করা হয় বলে সন্দেহ করছি। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী খুনিদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল মানববন্ধন করেন। তারা জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।