গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মারপিট ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আবুল কাশেমের শেষ ঠাঁই হয়েছে বাবার কবরের পাশে বরই গাছের তলায়। গতকাল সন্ধ্যায় সর্বশেষ জানাজা শেষে তাকে সিটি করপোরেশনের গাছা থানাধীন বোর্ডবাজারের দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানা গেছে, এর আগের রাত ১১টার দিকে ঢাকা থেকে লাশবাহী একটি ফ্রিজিং গাড়িতে করে নিহত আবুল কাশেমের লাশ তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানাধীন বোর্ডবাজারের দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংগঠনের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বেলা ১১টায় গাজীপুর শহরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে আবুল কাশেমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার লাশ নেওয়া হয় সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বোর্ডবাজারের আল-হেরা ফিলিং স্টেশন মাঠে। বাদ জোহর সেখানে আরও একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণ কলেশ্বর এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের ডান পাশে বরই গাছ তলায় দাফন করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর থানার ধীরাশ্রমের দাক্ষিণখান এলাকায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পেয়ে তা প্রতিহত করতে ঘটনাস্থলে যায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে। তারা বেশ কয়েকজনকে আটক করে বেধড়ক মারধর করে ও কোপায়। এতে আবুল কাশেমসহ ১৭ জন আহত হন। ঢামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ১৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার বিকাল ৩টার দিকে আবুল কাশেম মারা যান।