জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম বদরুল আলম ও তাঁর স্ত্রী মাসুমা আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সংস্থাটির সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায় দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
দুদক জানায়, মাসুমা আলম দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৮২ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। এসব সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৯৯ টাকা। পারিবারিক ব্যয় ৬৯ লাখ ৪৩ হাজার ৪৫১ টাকা বাদে তাঁর গ্রহণযোগ্য নিট আয় ১ কোটি ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮ টাকা পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে মাসুমা আলম জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩২ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। তাঁর স্বামী এস এম বদরুল আলম তাঁর অবৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩২ টাকার সম্পদ তাঁর স্ত্রী মাসুমা আলমের নামে দেখিয়েছেন। মামলায় বলা হয়েছে, মাসুমা আলমের বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকা সত্ত্বেও স্বামী পুলিশ অফিসার হিসেবে অর্জিত আয় বৈধ করার উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে আয়কর নথিতে ভুয়া ব্যবসা দেখিয়ে স্বামীর অবৈধ আয় ব্যবসার নামে বৈধ করার চেষ্টা চালান; যা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। অভিযুক্তদের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ধানকোড়া গ্রামে। তাঁরা খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডের ৩৬৮ নম্বর বাসায় বসবাস করেন।
এদিকে দুদক কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার আশুলিয়া থানা থেকে কয়েক শ গজ দূরে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) দক্ষিণ পাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষা একটি তিন তলা ভবন পাওয়া যায়। ভবনটির মালিক বদরুল আলমের স্ত্রী মাসুমা আলম। মাসুমার নামে আশুলিয়াতেই রয়েছে আরও ৪৯ শতাংশ জমি। খুলনায় আছে তাঁর পাঁচ তলা একটি বাড়ি। বদরুল আলম হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এএসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে গাজীপুর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে। জানা গেছে, বদরুল আলম ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আশুলিয়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি কেনেন। মাসুমা খানমের নামে কেনা এসব জমিতে তিনি একটি তিন তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যে এলাকায় কর্মরত থাকবেন ওই এলাকায় নিজের বা স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ কিনতে পারবেন না বলে নিয়ম রয়েছে। অন্য এলাকায় কোনো স্থাবর সম্পদ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। অথচ আশুলিয়ায় স্থাবর সম্পদ কিনলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেননি বদরুল আলম। ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বদরুল আলমের স্ত্রী মাসুমার নামে আশুলিয়ার বাইপাইল মৌজা থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ এবং উত্তর রামচন্দ্রপুর মৌজা থেকে ৩৩ শতাংশ জমি কেনা হয়। ২০১৪ সালে গণকবাড়ী মৌজা থেকে মাসুমার নামে আরও ৬ শতাংশ জমি কেনেন। সেখানে তিন তলা বাড়িটি নির্মাণ করেছেন তাঁরা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এর মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।