নারায়ণগঞ্জ শহরে ফ্ল্যাট বাসায় উৎপল রায় (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে টানবাজার সাহাপাড়া এলাকার ওই বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত উৎপল রায় সাত তলা ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে বাস করতেন। তিনি আগে ফ্লাওয়ার মিলে চাকরি করতেন। তার দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে একজন প্রবাসে থাকেন। আরেক সন্তান উজ্জ্বল রায় পেশায় চিকিৎসক এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা। স্ত্রী বিয়োগের পর ছেলের সঙ্গেই ওই ফ্ল্যাটে বৃদ্ধ উৎপল থাকতেন। পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে ছেলে উজ্জ্বল রায় বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখেন। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।
ঘটনার পর থেকে বাড়ির দারোয়ানের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের ধারণা, দারোয়ান লুট ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। সবদিক বিবেচনায় পুলিশ তদন্ত করছে।
নিহতের ছেলে সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রকল্প পরিচালক ডা. উজ্জ্বল রায় বলেন, তিনি প্রতিদিন সকালে তার ঢাকার কর্মস্থলে চলে যান। সারাদিন তার বাবা বাড়িতে একাই থাকেন। একজন নারী আছেন যিনি গৃহকর্মীর কাজ করেন আর দারোয়ান টুকটাক কাজ করে দেন। তিনি আরও বলেন, তার বাবা সাধারণত পরিচিত লোক ছাড়া দরজা খোলেন না। যিনি বা যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা বাবার পরিচিত হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। দারোয়ানকে নিয়ে দরজা ভাঙলেও এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। ঘরের প্রায় ১০ ভরি সোনা ও দেড় লাখ টাকাও নেই। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির আহমদ বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার গলার অংশে কাটা রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।