অল্প কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার জাফর কলোনিতে পরিবারের জন্য ঘরভাড়া নেন ইলেকট্রিশিয়ান মোহাম্মদ ইলিয়াস (৫২)। স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে নিয়ে সেখানে সুখেই কাটছিল ইলিয়াসের দিন। কিন্তু সোমবার ভোরে জাফর কলোনিতে এক আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ইলিয়াস। তার সঙ্গে প্রাণ গেছে স্ত্রী পারভীন আক্তারেরও (৪৫)। বাবা-মায়ের যখন বিয়োগ হলো তখন তাদের দুই সন্তান শাহিনা আক্তার (২৩) ও মোহাম্মদ সোহান (১৯) কাঁতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, বলুয়ারদীঘির পশ্চিম পাড়ে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান ৬টা ৪০ মিনিটে। তারা সেখানে আগুন নেভাতে গিয়ে দেখেন এলাকাটি খুবই ঘিঞ্জি প্রকৃতির। সে কারণে আগুন নেভাতে তাদের বেগ পেতে হয়। দূর থেকে পাইপ দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে হয়েছে। আগুন কিছুটা নেভানোর পর ইলিয়াসের পরিবার ও তাদের নিকটাত্মীয় মো. ফয়সালকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর পাঁচজনের মধ্যে ইলিয়াস ও পারভীনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আগুনের ধোঁয়ায় তাদের শ্বাসনালি পুড়ে মৃত্যু হয়েছে। তাদের দুই সন্তান শাহিনা ও সোহান এবং ফয়সালের শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর ইলিয়াস ও তার পরিবার ধোঁয়ার কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। পরে তারা বাসার বাথরুমে আশ্রয় নেন। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন জানান, ইলিয়াসের পরিবার এখানকার স্থানীয়। তবে তারা ভাড়া বাসায় থাকত। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। একদিকে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী মারা গেছেন, অন্যদিকে তাদের সন্তানরা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। ফলে কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। সবাই দোয়া করছেন, যাতে তাদের সন্তানগুলো বেঁচে থাকে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, জাফর কলোনির রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় এবং ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে আগুন নেভাতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। ততক্ষণে অগ্নিকাণ্ডে ১০টি আধাপাকা ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ৩৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে ধারণা করছেন তারা।