প্রশাসনে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বঞ্চিত থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এদের সচিব পদে ১১৯ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, গ্রেড-১ পদে ৪১ জন, যুগ্মসচিব পদে ৭২ জন ও উপসচিব পদে চারজনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তারা আর্থিক সুবিধাও পাবেন। গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অবসরে যাওয়া এত সরকারি কর্মকর্তাকে একসঙ্গে এভাবে পদমর্যাদা আর আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। জনপ্রশাসনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির তারিখ হতে বিধি মোতাবেক প্রাপ্যতা অনুযায়ী সব আর্থিক সুবিধাদি পাবেন। কর্মকর্তারা বর্তমান অর্থ বছরে তাদের বকেয়া পাওনাদির ৫০ শতাংশ এবং বাকি ৫০ শতাংশ পরের অর্থ বছরে পাবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তার ইতোপূর্বে জারি করা পিআরএল/এলপিআর আদেশ বাতিল করা হলো। বেতন নির্ধারণের সময় অবসরোত্তর ছুটি/অবসর প্রস্তুতি ছুটি সমন্বয় করতে হবে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি করা হয়েছিল। ওই কমিটি আওয়ামী লীগের আমলে ২০০৯ সাল থেকে গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সরকারি চাকরিতে নানাভাবে বঞ্চনার শিকার এবং এ সময়ের মধ্যে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা শেষে সুপারিশ প্রণয়ন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব এবং বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক জাকির আহমেদ খান। কমিটির কাছে মোট ১ হাজার ৫৪০টি আবেদন জমা পড়েছিল। পরে যাচাইবাছাই করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গত ১০ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দেয় কমিটি।