পরিবারের স্বপ্ন পূরণে ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে ইতালি গিয়েছিলেন সেলিম হোসেন (২৭)। টাকা পেয়ে ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যায় আদম ব্যবসায়ীরা। এরপর এক বছরের বেশি সময় সেলিম আটকা ছিলেন লিবিয়ায়। সেখানে আরও টাকা দাবি করে তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। ছেলের জীবন বাঁচাতে কয়েক দফায় আরও ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন সেলিমের পরিবার। কিন্তু তার পরও সেলিম ইতালি যেতে পারেননি। দালালদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সেলিম। সেলিমের বাড়ি বাঘা উপজেলার আলাইপুর মহাজনপাড়া গ্রামে।
সেলিমের পিতা আফজাল হোসেন জানান, তার ছেলেকে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার প্রলোভন দেখান একই এলাকার শহিদ ও বারি। তাদের সঙ্গে সাড়ে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। তবে সেখানে গেলে সেলিমকে আরও টাকার জন্য নির্যাতন শুরু করে তারা। আটকে রাখা
হয় মাফিয়াদের নির্যাতনের ঘরে। প্রায় ১৩ মাস সেখানেই কাটে সেলিমের। ছেলেকে আটকে অমানবিক নির্যাতন শুরু করলে দালাল শহীদ ও বারি কয়েক দফায় তাদের চাপ দিয়ে আরও ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ মোট ৩১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেয়। এ ছাড়াও জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বারি তার দুই বিঘা জমি দখল করে নেয়।
সেলিমের ছোট ভাই ইমন বলেন, ‘প্রতিবেশী শহীদ ও বারির যোগসাজশে আমাদের পরিবারকে নিঃস্ব করেছে। তারপরও আমরা চেয়েছিলাম আমার বড় ভাই সেলিম তাদের খপ্পর থেকে মুক্তি পাক। গত ১৩টা মাস আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। অবশেষে গত বুধবার দালাল শহীদ জানিয়েছিল সেলিম ইতালিতে রওনা দিচ্ছে। কিন্তু পরদিন (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫টায় জানায়, লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে স্ট্রোক করে সেলিম মারা গেছে। আমরা বারবার আমার ভাইয়ের ছবি ও ভিডিও দেখতে চেয়েছি। কিন্তু তারা দেখাতে পারেনি। লাশ পুলিশে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’ বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ফ. ম আছাদ জানান, থানায় সেলিমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সেলিমের মারা যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া যায় শহীদ ও বারির। তবে মোবাইল ফোনে শহীদ জানান, তিনি সেলিমকে ইতালিতে পাঠাননি। আর বারির ব্যাবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম বাবলু বলেন, যারা সেলিমের পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেলিমের লাশ যেন দেশে আসে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।