আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাতের শুরায়ি নেজাম বা মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় বা শেষ ধাপ। লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে গতকাল দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে ১২টা ২৭ মিনিটে শেষ হয়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের। মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি কামনা ও বিশ্বের মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ কামনা করা হয়। এ সময় লাখ লাখ মুসল্লির ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় টঙ্গীর তুরাগ তীরের ইজতেমা ময়দান। তাছাড়া সব ধরনের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। আট দিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন করবেন সাদ অনুসারীরা।
১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার ৫৮তম আসর। গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মাওলানা সা’দ অনুসারীগণ আগামী বছর থেকে তাদের বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগি কার্যক্রম টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে করতে পারবেন না- এমন শর্তসাপেক্ষে আগামী ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইজতেমা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
মোনাজাতকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভোর থেকেই লাখো মুসল্লি তুরাগ তীরে ভিড় জমিয়েছিলেন। নারী-পুরুষের ঢল নামতে থাকে গতকাল সকাল থেকেই। কেউ ময়দানে আবার কেউ সড়কে অবস্থান নেন। মাইকের আওয়াজ যতদূর গিয়েছে, সেখানেই মানুষ মোনাজাতের জন্য বসে পড়েছেন। তবে এই পর্বে সড়ক-মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক ছিল। মুসল্লি কম থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। এদিকে সা’দ কান্ধলভির অনুসারীদের ইজতেমার জন্য জুবায়ের অনুসারীদের কাছ থেকে প্রশাসন মাঠ বুঝে নেবে আজ। শুরায়ি নেজামের ইজতেমা আয়োজক কমিটির মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, বুধবার বাদ ফজর ভারতের বেঙ্গলুরুর তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি ফারুকের বয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা বাংলায় অনুবাদ করেন মুফতি আমানুল হক। এরপর হেদায়াতি বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আবদুর রহমান, তা বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল মতিন। এ বয়ানের পরে নসিহতমূলক বক্তব্য পেশ করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেউলা, তা বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা জুবায়ের। প্রথম পর্বের উভয় ধাপে ইজতেমায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বিদেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। ইজতেমায় আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু : বিশ্ব ইজতেমায় প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপে আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রথম পর্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের আবদুল গফুর আলী সরকারের ছেলে সুজাবত আলী সরকার (৭৫) মারা যান ও রাত ২টার দিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী গ্রামের মো. সামসুল আলম (৬০) মারা যান। তারা নিজ খিত্তায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।