সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন কারাগারে ৮৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের প্রশ্ন- নিজের দেশে ফেরত না পাঠিয়ে এসব বাংলাদেশিকে ভারতের কারাগারগুলোতে কেন আটকে রাখা হয়েছে? আদালত গতকাল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখাও চেয়েছেন। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন- ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার সাজার মেয়াদ শেষে তাকে সে দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন- আমরা কেন্দ্র এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে বুঝতে চাই- বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী একবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি যে ভারতের নাগরিক নন, এটা কি প্রতিষ্ঠিত হয় না? সেক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতের কারাগার বা ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের আটকে রাখার অর্থ কি? সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরে ২০১১ সালে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থে মামলা করেছিলেন মাজা দারুওয়ালা। ২০১৩ সালে ওই মামলা স্থানান্তর করা হয় শীর্ষ আদালতে। গতকাল সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত এই প্রশ্ন তোলেন। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ৮৫০ জন অবৈধ অভিবাসী অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। ২০০৯ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভারতীয় আইনের ২(ভি) ধারা অনুযায়ী সাজার মেয়াদ শেষে ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার যে নির্দেশ, তা পালন করতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। কেন্দ্রকে আদালতের প্রশ্ন, আজকের দিন পর্যন্ত সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কতজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের কারাগারে বন্দি রয়েছেন?
এ বিষয়গুলো মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে ব্যাপারেও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন শীর্ষ আদালত।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। এর আগে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একটি বিস্তৃত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।