ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ১২ জন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খারদিয়া গ্রামে। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে ঘণ্টাখানেক এ সংঘর্ষ হয়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ঘারুয়া ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষ রয়েছে। একপক্ষের নেতৃত্ব দেন ঘারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মুন্সী (৪৫) ও বিএনপির সমর্থক চান মিয়া (৪০)। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ঘারুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফিরুজুর রহমান নিরু খলিফা (৪৮) ও ঘারুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি করিম মোল্লা (৬০)। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গুরুতর আহত আনোয়ার মুন্সীর পক্ষের ইদ্রিস মোল্লা (৪৫)-কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আনোয়ার মুন্সীর পক্ষের ফজলুল হক মুন্সী (৫০), জিয়াদ আলী মাতুব্বর (৪২) ও ফিরুজুর রহমান নিরু খলিফার পক্ষের ফয়সাল শেখ (৪২)-কে।
খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাওছার খন্দকার বলেন, আমার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষ রয়েছে। একপক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নেতা আনোয়ার মুন্সী ও বিএনপির সমর্থন চান মিয়া। অপরপক্ষের নেতৃত্ব গত ৫ আগস্টের আগে দিতেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফিরুজুর রহমান নিরু খলিফা। গত সরকারের পতনের পর নিরু খলিফা জেলে যান। সম্প্রতি জামিনে আসেন। আনোয়ার মুন্সীর লোকজন গতকাল সকালে নিরু খলিফার বাড়িতে হামলা করতে গেলে করিম মোল্লার লোকজন বাধা দিতে যায়। এনিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু লোক আহত হন। পুলিশ এসে দুই পক্ষকে শান্ত করে। ঘারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মুন্সী বলেন, সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ যুবলীগ নেতা নিরু খলিফার নেতৃত্বে কয়েক শ লোক ঢাল, সড়কি, রামদা নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। নিরু খলিফা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা দিয়েছিলেন। এ মামলায় কয়েক মাস জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে আপ্রণ। এসেই আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।