ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলায় পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৬০ জন। হতাহতদের মধ্যে ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা দেশটির গুজরাট ও আসাম রাজ্যের বাসিন্দা। দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের তরফে দেওয়া এক ঘোষণার বরাতে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে প্রতি বারো বছর পরপর মহা কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। হিন্দুদের কাছে পবিত্র বলে বিবেচিত গঙ্গা ও যমুনা নদীর তীরে এ মেলা বসে। মহা কুম্ভমেলা এতই বড় যে যা মহাকাশ থেকে দেখা যায়। স্থানীয় সময় গতকাল ভোরের দিকে ওই ঘটনা ঘটে। মৌনি অমাবস্যা উপলক্ষে ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলে পুণ্য স্নান করার জন্য হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অস্থায়ী ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল, আর সেই ব্যারিকেড ভেঙে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। কুম্ভমেলার লক্ষণীয় দিক হলো গঙ্গায় পুণ্য স্নান। এ জন্য সঙ্গমস্থল ও গঙ্গার অন্য ঘাটগুলোর প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ পাড়ে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাবেশ ঘটেছে। কিন্তু সঙ্গমস্থলে অতিরিক্ত মানুষের জমায়েতের কারণে আকস্মিক দুর্ঘটনায় অনেকে হতাহত হন, অনেকে আবার তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুণ্যার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মেলায় দায়িত্বরত এক সরকারি কর্মকর্তা আকাক্সক্ষা রানা জানান, ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ব্যারিকেড ভেঙে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি একাধিক আহত হয়েছেন, তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যাবতীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি গোটা বিষয়টির দিকে নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রের তরফে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। ঘটনার পর উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে এক বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘পুণ্য স্নান করতে তীর্থযাত্রীরা যেন তাদের নিকটবর্তী ঘাটগুলোতে জমায়েত হন, দুর্ঘটনা এড়াতে তারা যেন সঙ্গমস্থল পরিহার করেন।’