বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুক্রবার রাতে লন্ডন ক্লিনিক ছেড়ে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় উঠেছেন। আপাতত ওই বাসায় থেকেই নিজের চিকিৎসা করাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসা করাতে ঢাকা থেকে লন্ডনে আসেন বেগম জিয়া। হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দ্য লন্ডন ক্লিনিকে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই টানা ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর গেলেন ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায়। এ সময় বেগম জিয়াকে একঝলক দেখা গেল হাস্যোজ্জ্বল। এ একটি মুহূর্তই আলো ছড়িয়েছে লন্ডনের বুকে। আশার আলো দেখেছেন যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। প্রায় সাড়ে সাত বছর পর এলেন ছেলের বাসায়! সঙ্গে বড় পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান। তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যান মাকে। পরনে সোনালি রঙের শাড়ি ও মাথায় হালকা ঘোমটা টানা বেগম জিয়া বসেছিলেন গাড়ির পেছনের সিটে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই খবর বের হয় শুক্রবার বেগম জিয়া রিলিজ নিচ্ছেন। শুক্রবার বাদ এশা তারেক রহমান ব্রিকলেন মসজিদে তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদে অংশ নেন। সেখান থেকে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে মায়ের রিলিজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা এবং বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত সাড়ে ৩টায় বেগম খালেদা জিয়াকে নিজের বাসায় নিয়ে যান তারেক রহমান। স্বাস্থ্যের যথেষ্ট উন্নতি হওয়ায় ডাক্তাররা আপাতত তাঁকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ধারণা করা হয়েছিল লন্ডন এসে প্রথমে ছেলের বাসায় উঠবেন বেগম জিয়া। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে ভর্তি হবেন। কিন্তু দীর্ঘ বিমান ভ্রমণে শারীরিক ধকল বিবেচনা করে তাঁকে সরাসরি হাসপাতাল নেওয়া হয়। এই ১৬ দিন ড. প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে চলে নানা পরীক্ষানীরিক্ষা। লিভার ও হার্টের চিকিৎসায় মনোযোগ দেওয়া হয় বেশি। ব্রিটেনের ডাক্তারদের সঙ্গে মেডিকেল টিমে ভার্চুয়ালি যোগ দেন আমেরিকার বিখ্যাত জন হপকিন্স হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত দেন বেগম জিয়া আপাতত ছেলের বাসায় থেকে চিকিৎসা করাবেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক প্রফেসর পেট্রিক কেনেডি ও জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। বর্তমানে খালেদা জিয়ার লিভার, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, প্রেশার, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ-সব রোগের জন্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চলছে। আপাতত ওষুধের মাধ্যমেই এটি অব্যাহত থাকবে। তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। কারণ তাঁর বয়সটা একটা বিবেচ্য বিষয়। আমাদের চিকিৎসকদের বক্তব্য হচ্ছে, আগে হলে হয়তো তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা যেত। জেলে রেখে তাঁকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তখন তাঁকে বিদেশে নিয়ে আসা গেলে হয়তো আরও দ্রুত সুস্থ করা যেত।