হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এরশাদ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এরশাদের ছেলে এরিকের খরচ বাবদ প্রতিমাসে বনানীর কুয়েত মৈত্রী মার্কেটের একটি দোকান, গুলশান ও বনানীতে দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রাপ্ত ভাড়া প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক এরিক এরশাদের ভরণপোষণের উসিলা দিয়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে আসছেন। এরিক এরশাদকে এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছেন বিদিশা। ইতিপূর্বে এরিকের বন্দিদশার একটি অডিও বার্তা ও লিখিত চিঠি আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছি। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ ও তাঁর গঠিত অধিভুক্ত ট্রাস্টের সম্পদে সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কোনো অধিকার দেননি সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর বিদিশা সিদ্দিক আইনি জটিলতার কারণে ট্রাস্টি বোর্ড কবজায় না নিতে পারলেও এর অধিকাংশ সম্পদ বর্তমানে তিনি দখলে রেখেছেন। কাজী মামুনুর রশীদ আরও জানান, ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল সম্পাদিত এক দলিলে ট্রাস্ট গঠন করে তার বিষয়-সম্পত্তির বড় অংশ সেখানে দান করেন এরশাদ। ট্রাস্টের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ছেলে শাহাতা জারাব এরিকের ভরণপোষণ ও জনহিতকর কাজে ব্যয় হবে সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়। ট্রাস্টের আয় ভোগ ও কর্মকান্ডে অংশীদার হতে পারবেন না বিদিশা। তিনি এমন দাবি করলে তা আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হবে না। কিন্তু এরশাদের মৃত্যুর চার মাস পরই এরিককে খাওয়ানোর কথা বলে বারিধারা প্রেসিডেন্ট পার্কে ঢোকেন এরশাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা। ট্রাস্টের অসিয়ত না মেনেই নিকেতনে তাঁর নিজস্ব ফ্ল্যাট থাকলেও তিনি আর প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে বের হননি। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রেসিডেন্ট পার্কের পুরনো সব কর্মচারীকে বিদায় করে দেন বিদিশা। কাজী মামুনুর রশীদের অভিযোগ, এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে তিনি অপ্রাপ্ত বয়স্ক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে দেখভালের নাম করে ট্রাস্টকৃত সম্পদে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক বসবাস করছেন। এরপর থেকেই প্রেসিডেন্ট পার্কে শুরু হয়েছে অসামাজিক, অনৈতিক কর্মকান্ড। কখনো কখনো এসব অপকর্মে জোরপূর্বক এরিককেও জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এসব আড্ডার ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করেন বিদিশা সিদ্দিক। ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তার অপকর্মে জড়িয়ে যাওয়া মানুষ যেন কখনো তার বিপক্ষে অবস্থান না নিতে পারেন। এসব ভিডিও দেখিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে থাকেন বিদিশা। কেউ তার কর্মকান্ডের বিরোধিতা করলে তাকে এসব ভিডিও দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এরশাদ ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, সদস্য মনিরুজ্জামান টিটু।