যানজটের শহরে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মেট্রোরেল ঢাকাবাসীর কাছে এক স্বস্তির বাহন। মেট্রোরেলের টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে প্ল্যাটফরমজুড়ে আলোর ঝলকানি দেখার মতো। কিন্তু মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে প্রধান সড়কে ঠিক এর বিপরীত দৃশ্য। বেশির ভাগ স্টেশনের নিচের সড়কে দিনের আলো পৌঁছায় না, অন্ধকারে সাবধানে চলাচল করতে হয় গাড়িচালক ও পথচারীদের। আর রাত নামতেই সে সড়কে থাকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ছিনতাইকারীদের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন পথচারী ও যাত্রীরা।
রাজধানীর যে সড়ক দিয়ে মেট্রোরেলের পথ তৈরি করা হয়েছে, সেখানে এর অবকাঠামো তৈরির সময় যে সড়কবাতিগুলো উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা মিডিয়ানে লাগালেও স্টেশনের ঠিক নিচের সড়কে আর লাগানো হয়নি। মেট্রোরেলের পিলারে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর মেটাল হ্যালাইড বাতি থাকলেও ভিতরে সে আলো পৌঁছায় না। আবার মেট্রো স্টেশনের নিচের সড়কে প্রাকৃতিক আলোর নিশ্চয়তা দিতে মেট্রোরেলের পিলার উঁচু করা হলেও আশপাশে বিভিন্ন সুউচ্চ ভবন থাকায় সে আলো আর এসে পৌঁছায় না। এতে দিনে-রাতে এ সড়কগুলো অন্ধকারে থাকে। মেট্রোরেলের পল্লবী, মিরপুর ১১, ১০, কাজীপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া স্টেশন সবচেয়ে বেশি অন্ধকারে থাকে। এতে এ সড়কগুলোয় অপরাধ ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পথ চলতে গিয়ে পথচারী, গাড়িচালকদেরও বেশ সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ১৫ জানুয়ারি শাহবাগে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের এক ঝুপড়িতে একটি মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়। রমনা থানার পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, এ সড়কগুলোতে চলাচলের জন্য দিনের বেলায়ও অন্ধকারের জন্য যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালাতে হচ্ছে। তবে রিকশা ও ভ্যানের মতো যেসব বাহনে হেডলাইট নেই তাদের বেশ সতর্ক থেকে চালাতে হয়। মেট্রোরেলের পাশের ফুটপাতে হাঁটার মতো পরিবেশ না থাকায় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। বেশ কিছু স্টেশনের নিচে মাঝেমধ্যে ছিনতাই ঘটছে বলেও এলাকাবাসী জানান।
মিরপুর কাজীপাড়ার বাসিন্দা শাহানা বেগম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে দিনের বেলা মেট্রো স্টেশনের নিচের সড়ক দিয়ে যেতে ভয় করে। কিছুদিন আগেই আমার এক প্রতিবেশী রিকশা দিয়ে যাচ্ছিলেন তার গলার চেইন টান দিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারী।’ এ কারণে এ পথে যাওয়ার সময় বেশ সতর্ক থাকেন শাহানা। শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা আবদুল গফুর বলেন, ‘এদিকে দিনের বেলাতেও আমাদের হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। এ ছাড়া রাস্তায় খানাখন্দ থাকায় ধুলোবালি ওড়াউড়ি করায় মেট্রো স্টেশনের নিচে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়।’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)-এর কর্তৃপক্ষ জানান, ‘মেট্রো স্টেশনের নিচে আমরা বাতি লাগাইনি। স্টেশনে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লাইট লাগাবেন। আর স্টেশনগুলোর যে উচ্চতা সেখানে আমরা লাইট লাগাতে পারি না। এ নিয়ে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মিরপুর ১২ থেকে সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত সড়কবাতি লাগিয়ে দিয়েছি। কিন্তু মেট্রো স্টেশনের ভিতরের অংশে সড়কবাতি লাগানোর কাজ মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের।’ ডিএমটিসিএলের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘মেট্রো স্টেশনগুলোর যে কলাপসিবল গেট আছে সেখান থেকে ভিতরের নিরাপত্তা এবং আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আর এর বাইরের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের দ্রুত সড়কবাতি লাগানো উচিত।’