আলোচিত ব্যবসায়ী মো. সাইফুল আলমসহ (এস আলম) তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৬৮টি ও ইউনিয়ন ব্যাংকে থাকা ১৯টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার ৩৫১ টাকা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের ১৯টি হিসাবে ১২ কোটি ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৬৩ টাকা ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৬৮টি হিসাবে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা রয়েছে। পাশাপাশি তাদের ১৬টি স্থাবর সম্পত্তি জব্দের (ক্রোক) আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে দুদকের উপপরিচালক মো. আবু সাঈদ এস আলমের সম্পদ জব্দের আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রেজাউল করিম রেজা।
জব্দ করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো এস আলমের স্ত্রী ফারজানা পারভীন, মা চেমন আরা বেগম, ভাই মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান, ওসমান গনি, রাশেদুল আলম, শহিদুল আলম, এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম, আশরাফুল আলম মাহির ও আসাদুল আলম, ওসমানের স্ত্রী ফারজানা বেগম এবং এস আলমের ভাই আবদুস সামাদের স্ত্রী শাহানা ফেরদৌসের নামে রয়েছে। এ ছাড়া জব্দকৃত স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে আছে, গুলশানের ১০ তলা এস আলম টাওয়ার, ধানমন্ডিতে ১ বিঘা জমিসহ ছয় তলা ভবন, ধানমন্ডি লেক সার্কাসে ১১.৮৮ শতাংশ জমিসহ চার তলা ভবন, গুলশানের ২৬৫৮ বর্গফুট জমির ওপর নির্মিত ফ্ল্যাট, গুলশান-২ এর ০.৭৮৮৮ একর জমি, উত্তরা আবাসিক এলাকায় সাত তলা ভবন, ভাটারা এলাকায় ১০৩.৩ কাঠা জমির প্লট এবং পৃথক পৃথক ১.৭২০০ একর, ৯৬ কাঠা, ১.৯৫৩৬ একর, ১১.১০৬১ বিঘা ও ১৩১.০৪ কাঠা জমি। এসব সম্পত্তির দলিলমূল্য ২০০ কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা বলে দুদকের আবেদন সূত্রে জানা যায়।
গত বছরের ৭ অক্টোবর একই আদালত সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে ১ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে এস আলম, তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং তাঁর পরিবারের ১১ সদস্যের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।