সদ্য অনুমোদন পাওয়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৪ (খসড়া)-এর বিভিন্ন বিতর্কিত ধারাগুলোর অপপ্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেছে ভয়েস ফর রিফর্ম ও ডিএসএ ভিক্টিম নেটওয়ার্ক। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ নিয়ে যৌথ আয়োজনে একটি আলোচনা সভা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন অধ্যাদেশের খসড়া অবিলম্বে বাতিল করে সবার মতামতের ওপর ভিত্তি করে শুধু সাইবার অপরাধগুলো থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য নতুন আইন কাঠামো তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনা ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গত সরকারের আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের নির্যাতনের শিকার কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক শিমু নাসের নতুন ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অধ্যাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ধারাগুলো উপস্থাপন করেন এবং সেগুলো কীভাবে বাকস্বাধীনতা রোধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে পারে তা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারকৃত চারজন ব্যক্তি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদে কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী থাকা সত্ত্বেও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মতো একটি কালো আইন তৈরি হতে যাচ্ছে।
উপস্থিত অন্য বক্তারা বলেন, আগের আইনটি অপপ্রয়োগ করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা কার্যত স্তব্ধ করে ভীতি ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শাসন কায়েম করতে সফল হয়েছিল। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আশা ছিল, গণতন্ত্র ও মানবাধিকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই (কালাকানুন বাদ দিয়ে ‘অপআইন’ বলা যেতে পারে) সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে তার পরিবর্তে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং নাগরিক অধিকারভিত্তিক একটি জনমুখী, সুচিন্তিত, সুসংগত ও সুশাসনমূলক আইন প্রণয়ন করা। সভাপতির বক্তব্যে আলোকচিত্রশিল্পী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম বলেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মানবাধিকার কিংবা জনগণের স্বার্থের লেন্স ব্যবহার না করে নিপীড়নের লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে পুলিশকে ও নিরাপত্তাবাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শেখ মুজিব, মেজর জিয়াউর রহমান মারা গেছেন।