আমেরিকান মুসলিমদের কাছে ইফতার সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। তারা রমজান মাসে ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণ ও সরকারের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুসলিমরা সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও উদ্বেগ তুলে ধরে, বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে এবং অসহায় নারী ও শিশুদের সাহায্য করে। এসব অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং তাতে সব ধর্মের অনুসারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
যেমন—গত ৭ মার্চ শুক্রবার আরব আমেরিকা ফাউন্ডেশন ফলস চার্চের রাউচে হলে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আরব আমেরিকান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ওয়ারেন ডেভিড বলেন, এমন আয়োজনগুলো সংলাপ, আতিথ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিভাজন দূর করতে সাহায্য করে।
অমুসলিম দেশে এমন আয়োজনে অনেক অমুসলিম সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করতে দেখা যায়।
যেমন—৭ মার্চ নিউইয়র্কের ওয়ালেইচ হলে এই সহযোগিতায় স্থানীয় মুসলিম নেতারা একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন।
৮ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে স্থানীয় মুসলিমরা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন সেইসব পালক মা-বাবার সহযোগিতার জন্য, যাঁরা এতিম ও অসহায় শিশুদের আশ্রয় দেন।
আজ ৯ মার্চ টেক্সাসের হাউস্টোনে ইফতার মাহফিল হওয়ার কথা। এতে অংশ নেবেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেবেন হাউস্টোনের মেয়র জন হুটমায়ার।
আয়োজকরা বলেন, হাউস্টোন পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক শহরগুলোর একটি। ইফতার আয়োজন আমাদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য প্রদর্শনের উত্তম সুযোগ; বিশেষত যখন এতে আমাদের অন্য ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনকে যুক্ত করা হয়।
তারা আরও বলেন, এটি সংহতি ও একতা প্রদর্শনের একটি অসাধারণ সুযোগ। এটা শুধু বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও সম্প্রদায়ের মধ্যে নয়, বরং এটা স্মরণ করি দেয় যে আমরা সবাই অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানবোধ নিয়ে বসবাস করি। আর তা বিভিন্ন অঞ্চল, বর্ণ, ধর্ম, জাতি ও মূল্যবোধের অধিকারী নির্বিশেষে সব মানুষের ভেতর।
এ ছাড়া কর্মব্যস্ত মুসলিমদের মধ্যে যারা সারা বছর পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন না, তাঁরা ইফতারের দস্তরখানে নিজেদের সম্পর্কটা ঝালাই করে নেন। বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা নিজ দেশের রীতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন ইফতার আয়োজনগুলোতে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা