বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডারও নাগরিক। তবে সম্প্রতি তার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে পিটিশন জমা পড়েছে। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত এ পিটিশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি কানাডীয়। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ইলন মাস্কের মা কানাডার নাগরিক ছিলেন। মাস্কের ছোটোবেলাতেই তাকে নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমান তার বাবা-মা। অর্থাৎ মায়ের সূত্রে কানাডার নাগরিকত্ব পান মাস্ক।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার রাজ্যের লেখক কোয়ালিয়া রিডস গত ২০ ফেব্রুয়ারি দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে জমা দিয়েছেন পিটিশনটি। এক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন নিউ ডেমোক্রেটিক দলের এমপি শার্লি অ্যাঙ্গাস, যিনি মাস্কের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। পিটিশনটিতে বলা হয়েছে, কানাডার নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মাস্ক সম্প্রতি এমন কিছু কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়েছেন, যা কানাডার জাতীয় স্বার্থবিরোধী। এ মুহূর্তে তিনি এমন একটি বিদেশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যেটি কানাডার সার্বভৌমত্বকে মুছে ফেলতে চায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখতে চান তিনি। সম্প্রতি কানাডীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক জারির হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গীভূত হতে আগ্রহী হয় তাহলে সেই প্রস্তাবিত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।
কানাডার আইন অনুযায়ী, যে ধরনের পিটিশন কোয়ালিয়া রিডস জমা দিয়েছেন, তা আমলযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে হলে সেটির পক্ষে অন্তত ৫ হাজার স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সেখানে গত ৬ দিনে এ পিটিশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি কানাডীয়। দেশটির আইনে আরও বলা আছে, কানাডার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর কোনো বিদেশি শক্তিকে যদি কোনো কানাডীয় সহযোগিতা করেন, তাহলে তার নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারবে দেশটির পার্লামেন্ট। এনডিটিভি