আমাদের দেশে শীতকালের স্থায়িত্ব বেশ কম। কিন্তু এই স্বল্প সময়েও বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে আমাদের ত্বক, চুল, ঠোঁট ইত্যাদি নিয়ে নানাবিধ সমস্যায় পড়ি। শীতে সাধারণত কিছু রোগ, যেমন একজিমা, সোরিয়াসিস, খুশকি (সেবোরিক ডার্মাটাইটিস), স্ক্যাবিস, পা ফাটা ইত্যাদি চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু রোগ দীর্ঘস্থায়ী। রোগীরা অনেক বছর ধরে ভুগছেন, শীত এলে রোগের প্রকটতা বেড়ে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কিছু রোগী নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন অসম্ভব শুষ্ক (ড্রাই) ত্বকের জন্য। খুব সাধারণ কিছু পরিচর্যার মাধ্যমে এই শীতেও ত্বক, চুলের সমস্যা থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা
* ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকে জেল বেসড এবং শুষ্ক ত্বকে ক্রিম বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে মুখের জন্য। বিশেষত মুখ পানি দিয়ে ধোয়ার পর পর এটি ব্যবহার করলে মুখের আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে। এর মধ্যে হায়ালুরনিক অ্যাসিড, সেরামাইড ইত্যাদি উপাদান থাকতে হবে।
* শীতে ঘন ঘন সাবান অথবা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া যাবে না। মুখ ক্লিনজিংয়ের পর ত্বকের ধরন বুঝে নিয়াসিনামাইড/হায়ালুরনিক অ্যাসিড/অন্যান্য সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
* শরীরের ত্বকে বারবার অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল অথবা লোশন বিশেষত যেখানে লিকুইড প্যারাফিন, স্লিগারিন, ইউরিয়া, আইসোপ্রোপাইল মাইরিসস্টেট, শিয়া বাটার ইত্যাদি (Isopropyl Myristate) জাতীয় উপাদান আছে সেগুলো ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকবে।
* পা ফাটা রোধেও ইউরিয়া, পেট্রোলিয়াম জেলী, কখনো কখনো স্যালিসাইনিক অ্যাসিড ক্রিমগুলোও বেশ কার্যকর। সঙ্গে নরম জুতা ও মোজা পরিধান করতে হবে।
* ঠোঁটের যত্নে বিসওয়াক্স (Beeswax), পেট্রোলিয়াস জেলি, সেরামাইড (Ceramide), ইত্যাদি ব্যবহৃত লিপ বামগুলো ভালো কাজে দেয়। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে। ঠোঁট ফাটার অন্যান্য কারণ যেমন কিছু মেডিকেশন (Medication), কমমেটিকস, অ্যালার্জিক কারণ চিহ্নিত করতে হবে।
চুলের যত্ন
* ড্যানড্রাফ অথবা ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিকারে মেডিকেটেড শ্যাম্পু (কিটোকোনাজল ২%), জিংক পাইরিজিওন, টার ইত্যাদি) সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করতে হবে। * অতিরিক্ত চুল পড়া কমাতে ও নতুন চুল গজাতে ভিটামিন ডিও বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন, মিষ্টি আলু, ডিম, বাদাম, বিচি জাতীয় খাবার, কলা, পালং শাক, ব্রুকলি, দুধ ও দই, লিভার (কলিজা), ফুলকপি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।
চর্মরোগ নিয়ে অবহেলা নয়
* সর্বোপরি ত্বক ও চুলের যত্ন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ইত্যাদি মেনে চলার পরও বংশগত, পরিবেশগত অথবা সংক্রমিত হয়ে নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এতে বিচলিত না হয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। স্বাস্থ্যকর ত্বক আমাদের আত্মবিশ্বাস জন্ম দেয়। স্বাস্থ্যকর ত্বক আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
লেখক : কনসালট্যান্ট ডার্মাটোলজিস্ট,
আফরোজা বেগম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বসুন্ধরা আ/এ, ঢাকা।