ঈদ-উল ফিতরের ছুটিতে কুমিল্লার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরসহ বিভিন্ন স্থানে তিন দিনে প্রায় ৩০ হাজার দর্শনার্থী ঘুরতে এসেছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দর্শনার্থীদের এই ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা নগরী থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর ঈদের ছুটিতে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এখানে অষ্টম শতকের পুরাকীর্তি রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
জাদুঘরের পাশেই রয়েছে বন বিভাগের পিকনিক স্পট ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বিআরডি - BARD)।
শালবন বৌদ্ধ বিহারের কাস্টডিয়ান মো. শাহীন আলম জানান, "ঈদের দিন থেকে তিন দিনে এখানে প্রায় ৩০ হাজার দর্শনার্থী এসেছে। শুক্রবার পর্যন্ত এই ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে।"
শুধু শালবন বৌদ্ধ বিহার নয়, ঈদের ছুটিতে রূপবান মুড়া, কোটিলা মুড়া, ধর্মসাগর পাড়, গোমতী নদীর পাড়, রাজেশপুর ফরেস্ট বিট ও বাণিজ্যিক পার্কগুলোতেও দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।
এছাড়া লাকসামের নওয়াব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি, সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুর ফরেস্ট বিট, মুরাদনগরের দৌলতপুরে কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি জড়িত স্থান ও বিভিন্ন জমিদার বাড়িতেও দর্শনার্থীরা বেড়াতে গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাসিন্দা এমদাদুল হক বলেন, "ঈদের সময় শিশুদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধ বিহার বেশ ভালো জায়গা। তাই পরিবারসহ এখানে এসেছি।"
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কামাল হোসেন জানান, "এখন কুমিল্লায় বেশ কিছু ভালো আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে, যেখানে পরিবার নিয়ে থাকা ও খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। দুই দিন সময় নিয়ে এলে কুমিল্লার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সহজেই ঘোরা যায়।"
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রেল ও সড়কপথে কুমিল্লায় আসার সুব্যবস্থা থাকায় দর্শনার্থীরা সহজেই এখানে ভ্রমণ করতে পারছেন।
বিডি প্রতিদিন/আশিক