বগুড়ায় ঈদের একেবারে শেষ সময়ে এসে আতর টুপির দোকানে ভিড় বেড়েছে। রবিবার দুপুরের পর থেকে এই ভিড় শুরু হয়ে চলছে সমান তালে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল ফিতরে অনেকেই নতুন টুপি, আতর ও সুরমা লাগিয়ে ঈদগা মাঠে নামাজ আদায় করে থাকেন।
বগুড়ার নিউ মাকের্ট, হাকার্স মার্কেট, জলেশ^রীতলা, পুলিশ প্লাজা, রানার প্লাজা, আলতাফ আলী সুপার মার্কেটসহ সব খানেই ছিলো সাধারণ ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এই ভিড় সমালাতে রীতিমত হিমসীম খেতে হয় দোকানীদের। ঈদের আগের দিন রবিবারও সমান তালে বিক্রি হয়েছে নারী পুরুষ ও শিশুদের পোষাক। আর পোষাকের দোকানকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিলো বাহারী সব টুপির দোকানে। টুপি, তছবি, সুরমা ও আতর কিনতে উপচে পড়ে মানুষ। ধর্মীয়ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে দুপুরের পর থেকে আতর টুপির দোকানে প্রচুর ভিড় করতে থাকে। পা ফেলার জায়গা ছিলো না, বগুড়ার নিউ মার্কেট এর বড়মসজিদ লেনের। এই লেনেই সবচেয়ে বেশি টুপি ও আতর বিক্রি হয়ে থাকে। বগুড়ায় বিক্রি টুপির মধ্যে রয়েছে স্টার, বুটা, কদমফুল, মাকড়াসা, ফ্যান ফুল, রাজু বুটা, নব্বই ফুল, আনারস, গাছ, ফুল, তালাচাবি, বিস্কুট, মৌচাক, তাহফিজ, পাঁচ পয়সা, মাছের কাটা, দশফুলসহ রয়েছে আরো হরেক নাম। এসবই টুপির ডিজাইনের নাম। বাহারি নামের এই ডিজাইন করা টুপি বিক্রি হচ্ছে বগুড়া জেলার বিভিন্ন মার্কেটে।
বগুড়া শহরের টুপি বিক্রেতারা জানান, জেলার ধুনট ও শেরপুর উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক গ্রামে তৈরী হয়ে থাকে টুপি। গ্রাম্য বধূদের কারিগরি নিপুঁন হাতের ছোঁয়া আর সুতো ও ক্রুশকাটার মিলিত বন্ধনেই তৈরীকৃত টুপি চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। এছাড়া জেলার চাহিদা মেটাতে জেলার নারীরাই তৈরী করছে বেশিরভাগ টুপি। পুরুষও তৈরী করছে তবে সংখ্যায় কম। টুপি ব্যবসায়িদের ধারণা জেলার ধুনট ও শেরপুর উপজেলা মিলিয়ে অর্ধলাখ নারী এই টুপি তৈরী করে বাজারে বিক্রি নিজেদের সংসার পরিচালনা করে আসছেন।
বগুড়ার দোকানগুলোতে এসেছে নানা রঙের ও নকঁশার বাহারি টুপি। ইন্দোনেশিয়া, তুরষ্ক, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নানা নামের টুপির সমাহার দেখা যাচ্ছে দোকানগুলোতে। আছে দেশি টুপিরও বিশাল সম্ভার। সুরমা বিক্রি হচ্ছে পরিমাণ মতো ২০ টাকা থেকে শুরু করে যার যতটুকু প্রয়োজন। আতরেও এসেছে নানা বৈচিত্র। দেশি-বিদেশি নানা ব্রান্ডের নানা ঘ্রাণের আতরের সুগন্ধে বিমোহিত দোকানাগুলো। দরবার, হাসনাহেনা, আগড়উড, সুলতান, জেসমিন, কাঁচাবেলিসহ নানা নামের আতর রয়েছে দোকানগুলোতে।
বগুড়া শহরের নিউ মাকের্ট বড় মসজিদে লেনের টুপি ও আতর বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রচুর বিক্রি বেড়েছে। আতর, সুরমা, টুপি ও জায়নামাজের বিক্রি জমে উঠেছে। পাকিস্তানি চুমকি টুপি সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন মানের টুপি ২শ’ থেকে ২৫০ এবং পাতলা তুর্কি টুপি ৫০ থেকে ১শ’ এবং তাকওয়া টুপি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও আর ভালো মানের জায়নামাজ এক হাজার ২শ’ এবং তুর্কি জায়নামাজ ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আতর ৪০ থেকে পরিমাণভেদে ১শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়া শহরের টুপি ক্রেতা মোত্তালিব তালুকদার জানান, পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিনে সকালে নতুন কাপড়ের সাথে নতুন সুগন্ধি, সুরমা আর টুপি মুসলমানদের দেয় ঈদ আনন্দের পূর্ণতা। এই পূর্ণতার জন্যই নতুন টুপি সংগ্রহে ভিড়ের মধ্যেই পছন্দ করতে হয়েছে। প্রায় একঘন্টা সময় লেগেছে টুপি কিনতে। দাম যেমনই হোক দরদাম করে নিতে হয়েছে টুপি। আতরও দারাদম করে নিতে হচ্ছে।
এদিকে বগুড়ার প্রায় দুই হাজার ঈদগা মাঠে নামাজ আদায় করার যাবতীয় প্রস্তুতি গহণ করা হয়েছে। মাঠে মাঠে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে চুন কাজ করে ঝকঝকে করা হয়েছে। মাঠে লাইটিং করে সাজানো হয়েছে ডেকোরেটর দিয়ে। এসব নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়েই এবারে ঈদ উল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছেন মুসলমানরা।
বিডি প্রতিদিন/এএম