জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির যোগসাজশে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের আবহ থেকে পরিপূর্ণভাবে বঞ্চিত ছিল। দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদীদের যাতাকলে পিষ্ট হওয়ার পেছনে ছিল এই দুটি রাজনৈতিক দল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ গ্লাস ফ্যাক্টরি মাঠে ভ্যান শোভাযাত্রা শুরুর আগে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার, সংস্কার ও বিচারকার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিতের ভেতর দিয়ে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচনের বাস্তবতা রয়েছে। দেশে ফ্যাসিবাদী, একনায়কতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক ও জনগণের অধিকার বঞ্চিত করার সংবিধান দিয়ে শাসন কাঠামো পরিচালিত হবে, তা দেশের মানুষ চায় না। দেশের মানুষ নতুন সংবিধান প্রত্যাশা করে। আশা করবো, সক্রিয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক পক্ষ গণপরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
তিনি বলেন, যারা গণহত্যার আনজাম দেয়, দেশের মানুষের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ চাপিয়ে দেয়, গণতন্ত্রকে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়, এমন শক্তি কোনোভাবেই গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়। গণতন্ত্রকামী মানুষ ও দেশ কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রাজনীতি করার অধিকার দিতে পারে না। তাই আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো ফ্যাসিবাদী শক্তি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের প্রয়োজনীয় উপাদান হতে পারে না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি নির্বাচনে না আসতে পারলে গণতন্ত্রের বিজয় সূচিত হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে—দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার, নিবন্ধন বাতিল ঘোষণাসহ তাদের দলের নাম ও মার্কা নিয়ে বাংলাদেশে কেউ কোনোভাবে রাজনীতি করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা—যাদের হাত ধরে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, দেশ গণতান্ত্রিক পরিবেশে উত্তরণের সুযোগ পেয়েছে, সেই তরুণদের হাত ধরে দেশের মানুষ আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ চায়। সে যাত্রায় জাতীয় নাগরিক পার্টি কাজ শুরু করেছে।
নাগরিক পার্টির এই নেতা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। অন্য রাজনৈতিক শক্তি যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করে, তাহলে সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করে নির্বাচনের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। এতে এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন হওয়ার মতো বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশে মধ্যমপন্থী রাজনীতির সূচনা করেছে। এই মধ্যমপন্থী রাজনীতিতে সকল ধর্মের, সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের সঙ্গে কথা বলে মতবিনিময় করে তরুণদের নেতৃত্বে দেশে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রতি মানুষের প্রত্যাশার পারদ আমরা অনুভব করতে পারি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংগঠক আলমগীর নয়ন, তৌফিক ইসলাম প্রমুখ। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা দুই শতাধিক ভ্যানে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি শোভাযাত্রা পীরগাছার দেউতি, সৈয়দপুর, কদমতলা, পীরগাছা, নেক মামুদ, পাওটানা, ভাইয়েরহাট ও কাউনিয়ার টেপামধু এলাকায় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল