ঈদ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে আলাদা থাকার পর প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে কয়েক দিনের জন্য মানুষ ঘরে ফিরে যান। এজন্য ঈদে সবারই থাকে বাড়ি ফেরার তাড়া। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে বাস ও ট্রেনের টিকিট কাউন্টারগুলোতে। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রা কতটা সুবিধাজনক হবে এ নিয়ে চিন্তা ঘরে ফেরা মানুষদের।
ঈদের সময় বিভিন্ন চক্র যেমন মলম পার্টি, গামছা পার্টির আবির্ভাব হয়। বিশেষ করে মলম পার্টির প্রাদুর্ভাব ঈদের সময় বেশি দেখা যায়। তারা খাবারের মধ্যে নেশাজাতীয় বা চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে অর্থ, ফোন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। সবমিলিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় ঘরমুখো মানুষদের।
এদিকে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করতে বগুড়ার কয়েকটি স্থানে হাইওয়ে পুলিশের আয়োজনে পরিবহন সংশ্লিষ্টসহ সকলের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন হাইওয়ে পুলিশ রিজিয়ন বগুড়ার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোঃ শহিদ উল্ল্যাহ্। হাইওয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য নিযুক্ত থাকবেন।
বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্যোগগুলো হলো হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, যানজট নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি মহাসড়কে চলতে বাধা দেওয়াসহ বিগত বছরের ঈদযাত্রার মতো যানজট নিরসনে কাজ করা।
হাইওয়ে পুলিশ রিজিয়ন বগুড়ার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোঃ শহিদ উল্ল্যাহ্ জানান, ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঘরে পৌছাতে পারে সে বিষয়ে মহাসড়ক নিরাপদ ও যানযট মুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। মহাসড়কে নিরাপত্তা বিধান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা ও যানজটসহ দুর্ঘটনা রোধকল্পে ২৫ মার্চ থেকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের আওতায় হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা, শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্প ও বনপাড়া হাইওয়ে থানা সড়কে নিরাপত্তা প্রদানে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঘরমুখো মানুষদের সর্বাধিক সেবা দিতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। এত মানুষের একসঙ্গে ঘরে ফেরার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা। মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করতে আমরা পরিবহন সংশ্লিষ্টসহ সকলের সাথে মতবিনিময় সভা করেছি। এছাড়া মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে ২৪ ঘণ্টা হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষে হোটেল-রেঁস্তোরা মালিকদের সাথে কথা বলা হয়েছে। যাতে সড়কে যানজট সৃষ্টি না করেন। একই সাথে মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে যাত্রী এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য ঈদযাত্রা ভোগান্তিমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল