বরগুনা পৌর শহরের কালিবাড়ি এলাকায় মন্টু চন্দ্র দাস (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে নিহতের বাড়ির পাশের পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর গ্রামে মিরাজ মুন্সি (৪৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান দুজনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মন্টু চন্দ্র দাস কালিবাড়ি কড়ইতলা এলাকার মৃত জয়েশ্বর দাসের ছেলে এবং পৌর মুরগি বাজারের এক দোকানের কর্মচারী ছিলেন। স্বজনদের দাবি, মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে না ফেরায় মন্টুর মোবাইলে কল দিলে পেছনের পুকুরপাড় থেকে রিংটোন শুনতে পান। সেখানে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহতের পরনের কাপড় ছিল ভেজা, হাতে কামড়ের দাগ ও সারা শরীর কাদা মাখা ছিল।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এক সপ্তাহ আগে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মন্টু আদালতে মামলা করেন। সেই মামলার প্রধান আসামি কারাগারে থাকলেও তার সহযোগীরা প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করা এখনো সম্ভব হয়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।'
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম জানান, ‘প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।’
এদিকে, নিহত মিরাজ মুন্সি সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে। মিরাজ নিজ এলাকায় সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কুমড়াখালি গ্রামের লোকজন ডালক্ষেতে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলে ক্ষেতের মাঝখানে পরিত্যক্ত একটি ঝোপের পাশে মিরাজের মরদেহ দেখতে পায়। পরে এলাকাবাসীর চিৎকারে লোকজন জড়ো হলে থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মরদেহ প্রাথমিক সুরতহাল করে।
বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিরাজের মরদেহের সুরতহাল করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত অবশ্যই পুলিশ তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা