শরীয়তপুরে ছেলে-মেয়ের বিয়ের দাওয়াত নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কাজিকান্দি এলাকায় দুই ভাই ইমামুল হক সরদার ওরফে (এনামুল) ও আজিজুল হক সর্দারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুরের কাজিকান্দি এলাকায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইমামুল হক সরদারের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে আপন ছোট ভাই আজিজুল সরদারের পরিবারকে দাওয়াত দেননি এনামুল হক সরদার। আগামী একুশে ফেব্রুয়ারি আজিজুল সরদারের ছেলের বিয়ে। প্রতিশোধ হিসেবে আজিজুল সরদারও তার ছেলের বিয়েতে এনামুলের পরিবারকে দাওয়াত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এনামুল সরদারের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, বাঁশ ও লাঠি নিয়ে আজিজুল সরদারের বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৪ জন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর বাকিরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর আহত সামসুল হক সরদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হলেন ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান কাজী (৫০), সাবেক ইউপি সদস্য মনোয়ার কাজী (৩২), বোরহান কাজী (৫০), আজিজুল সরদার (৫০)। তবে স্থানীয়দের মতে, দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল, যা এই সংঘর্ষের একটি কারণ হতে পারে।
আহত ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান কাজী আজিজুল সরদারের পক্ষের লোক।তিনি বলেন, এনামুল সরদার ও খলিল মাদবরের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ করে। আমাদের কয়েকজনকে কুপিয়ে পিটিয়া আহত করে। আমরা এনামুলদের দাওয়াত দিতে চেয়েছিলাম। অথচ এনামুল তার মেয়ের বিয়েতে আমাদেরকে দাওয়াত দেয়নি। তবুও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
এদিকে এনামুল সরদারের পক্ষে তার বড় ভাই সামসুল হক সরদার জানান, আমি সামনে বিনোদপুরে ইউপি নির্বাচন করব। দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুনে আমি সংঘর্ষ থামাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তখনই আমার ওপর হামলা হয়। আমার মাথা ও হাতে আঘাত লেগেছে। আমি এবং আমার কোনো লোকজন কারো ওপরে হামলা চালায়নি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি আছেন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। গুরুতর আহত সামসুল হক সরদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, এটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি, তবে তদন্ত চলছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ