জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর রাংটিয়ায় কোচ সম্প্রদায়ের 'বিহু উৎসব' অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিহু উৎসব ভারতের আসামের জাতীয় উৎসব। তবে এই উৎসবকে এখানের আদিবাসী কোচ সম্প্রদায় বসন্ত উৎসব বলে পালন করে।
আজ মঙ্গলবার দিন ব্যাপি এই অনুষ্ঠান পালন করা হয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সেল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজনে রাংটিয়ার ঐতিহ্যবাহী কালিস্থান মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবকে ঘিরে নাচ গান, ধর্মীয় আর্চনা ও কোচদের নানা সংস্কৃতির আয়োজন থাকে।
উৎসবে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিলুর আহমেদ।
এসময় ড. সৈয়দ জামিলুর আহমেদ বলেন, কোচরা হচ্ছে বীরের জাতি। তাদের ৯শ' বছরের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ইতিহাসকে ধরে রাখতে হলে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। তাহলে কোচদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত হবে।
কোচদের অনেক দাবি নিয়ে জামিল বলেন, একটা সংস্কৃতি দাঁড়ায় মনোবলে, অনুদানে না। এজন্য নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। তখন সকলে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে দাঁড়াতে পারবে। আর এভাবেই কোচ জাতি এগিয়ে যাবে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর শিল্পকলা একাডমির কালচারাল অফিসার আতিকুর রহমান, ট্রাইবাল ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিপুল হাজং, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উপ-পরিচালক এস এম শামিম আকতার, অরুণ কুমার রাংটিয়া কোঁচ সম্প্রদায়ের গ্রাম প্রধান, রাংটিয়ার কোঁচ নেতা যুগল কিশোর প্রমুখ।
বিহু উৎসবের শুরুতেই ছিল অতিথি বরণ। এরপর ধাপে ধাপে আন্দাহুরা পূঁজা, ত্রিনাথ পূজার্চনা, অতিথিদের উত্তরীয় এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান, আলোচনা পর্ব, থুবুল মাগায়নি (বিহু উৎসবের প্রেক্ষাপট পরিবেশন), বিহু নৃত্য-সংগীত, উৎসব স্মারক প্রদান করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/মুসা