মেডিকেলে চান্স পেয়েও পড়াশোনার অনিশ্চিতায় ভুগছিলেন পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের মৌগ্রাম এলাকার দিনমজুর হাসমত মির্জা ও গৃহকর্মী চায়না খাতুনের একমাত্র মেধাবী মেয়ে মেঘলা।
এ সংবাদ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচার হলে নজরে আসে পাবনা জেলা প্রশাসকের। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মেঘলার মেডিকেল পড়াশোনার প্রাথমিক খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকার চেক হাতে তুলে দেন তিনি। সেই সঙ্গে মেডিকেল পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাসিক পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে সদর নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসতে। পরে তার পরিবারের অসচ্ছলতার কথা জানতে পেরে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, মেঘলার বাবা দিনমজুর, মা গৃহিণী। তাদের পরিবারে আয় রোজগার করার মত আর কেউ নেই। তাই বিষয়টি আমাদের আহত করেছে। সে বিষয়ে চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার পাঁচ বছরের পড়াশোনার খরচ আমরা বহন করব।
তিনি বলেন, যেহেতু তার পরিবারের মেডিকেলে পড়াশোনা করানোর সক্ষমতা নেই। তাই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। তার পড়াশোনার প্রাথমিক যে খরচ, প্রতি মাসের খরচটা আমরা তার কাছে পৌঁছে দিব এবং পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
মেডিকেলে চান্স পাওয়া মেঘলা বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার আমাকে যে সহযোগিতা করেছেন এতে করে আমি অনেকটা উপকৃত হব। আমি মেডিকেলে পড়াশোনা করতে পারব এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। যেহেতু জেলা প্রশাসক স্যার আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন, এতে করে নিশ্চিত হলাম যে আমি মেডিকেলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব।
বিডি প্রতিদিন/একেএ