বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে অবৈধভাবে চর কেটে চলছে বালু উত্তোলনের হিড়িক। উপজেলার কাজলার জামথল ঘাটসংলগ্ন এলাকাসহ কামালপুর ও হাটশেরপুর ইউনিয়নে এক্সকেভেটর বসিয়ে বালু ও মাটি কাটা হচ্ছে। পরে এসব বালু শতাধিক অনুমোদনবিহীন ড্রাম ট্রাক ও মাহিদ্রা ট্রাক্টর দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে এসব এলাকা হুমকির মুখে পড়ছে। ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমিসহ আশপাশের বাড়িঘরের। এলাকাবাসী বলছেন, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে আইনকে তোয়াক্কা না করে এসব বালু উত্তোলন করছেন।
জানা যায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ পয়েন্টে বালু বিক্রির পর সেখানে আবারও চর কেটে বালু উত্তোলন চলছে। হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল বাজারের সামনে যমুনা নদী থেকে মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর দিয়ে কাটা হচ্ছে বালু। সবগুলো পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা। বালু উত্তোলনের স্থান থেকে ৫০ মিটার এলাকার মধ্যে ৫৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী সংরক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই বেড়াপাঁচবাড়িয়া চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এখানে ছয়টি এক্সকেভেটর বসিয়ে চর কাটছেন তারা। ফলে এ চরে বড় বড় নতুন করে ক্যানেলের সৃষ্টি হয়েছে। বালুগুলো শতাধিক অনুমোদনবিহীন ড্রাম ট্রাক এবং কৃষি কাজে ব্যবহৃত মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। যা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এ উপজেলার জনবহুল মাদারগঞ্জ নৌঘাট থেকে মাদারগঞ্জ শহরগামী সড়ক দিয়ে যানবাহন এবং পথচারী চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটিতে প্রায় হাঁটুসমান ধূলিময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে বিশালাকার গর্তে পরিণত হয়েছে। এই সড়কে শুধু মোটরসাইকেল বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে অতিকষ্টে। এদিকে উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ পয়েন্টেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির জন্য স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ১০ জন বালুদস্যুকে আটক করা হয়। পরের দিন ২৪ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রত্যেকের নামে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে আবারও সেখানে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।