চলতি বছর বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিন ক্রিকেট শিল্পী। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলে ওয়ানডেকে বিদায় বলেছেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তাঁর বিদায় ঘোষণার এক সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। রাজনৈতিক কারণে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না সাকিব আল হাসান। খেলায় নেই মাশরাফি বিন মর্তুজা। পাঁচ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছাড়া নতুন করে পথ চলতে শুরু করছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ‘পঞ্চপা ব’ ক্রিকেটারকে ছাড়াই টাইগাররা এখন ক্রিকেট খেলবেন। অবশ্য ৩৭ বছর বয়সি মুশফিকুর রহিম সাদা পোশাক ও লাল বলের টেস্ট খেলবেন। এ বছরই হয়তো অনন্য এক মাইলফলক গড়বেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। বাংলাদেশ চলতি বছর তিনটি সিরিজে ছয়টি টেস্ট খেলবে। সব টেস্ট খেলতে পারলে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার ক্লাবে নাম লেখাবেন মুশফিক। এপ্রিল-নভেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে বাংলাদেশ সাতটি বাইলেটারাল সিরিজে ছয় টেস্ট, ১৫ ওয়ানডে ও ১৭ টি-২০ ম্যাচ খেলবে।
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত কোনো টেস্ট কিংবা টি-২০ ম্যাচ খেলেননি নাজমুলরা। গেল মার্চে পাকিস্তানের মাটিতে আট জাতির চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানে তিনটি ওয়ানডে খেলেছেন টাইগাররা। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ক্রিকেটাররা এখন ব্যস্ত ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ নিয়ে। সুপার প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগ চলাকালে দুটি টেস্ট ম্যাচ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে জিম্বাবুয়ে। ২০-২৪ এপ্রিল সিলেটে প্রথম টেস্ট ও ২৮ এপ্রিল-২ মে দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে চট্টগ্রামে। চলতি মাস থেকেই টাইগারদের ব্যস্ত সূচি। দম ফেলানোর ফুরসত পাবেন না। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবেন নাজমুলরা। নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততা থাকবে টাইগারদের। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচটি টি-২০ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজটি অ্যাওয়ে।
পাকিস্তান সফর শেষ করে এসে খুব বেশি সময় বিশ্রাম পাবে না নাজমুল বাহিনী। পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে জুনে শ্রীলঙ্কা সফর করবে। সফরে দুটি টেস্ট এবং তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ খেলবে বাংলাদেশ। দ্বীপরাষ্ট্র সফর শেষ করে দেশে ফেরার পর নাজমুল বাহিনী আতিথেয়তা দেবে পাকিস্তানকে। দেশটির বিপক্ষে এবার খেলবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ। আগস্টে ঢাকা আসবে ভারত। সিরিজে দুই দেশ তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ খেলবে পরস্পরের বিপক্ষে। এরপর সেপ্টেম্বরে বিশ্রাম। অক্টোবরে আবার ব্যস্ততা বাড়বে নাজমুলদের। সে মাসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের সিরিজ দিয়েই টাইগাররা প্রস্তুতি সেরে নেবেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার। নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট এবং তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ খেলবেন নাজমুলরা।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে সিরিজ খেলবে পাঁচটি। ঘরের মাটিতে পাঁচ সিরিজে খেলবে চার টেস্ট, ১২ ওয়ানডে ও নয় টি-২০। দুটি অ্যাওয়ে সিরিজে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও টি-২০ খেলবে আটটি। আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) শেষ হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালে আরও নয়টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ওয়ানডে, টি-২০ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ রয়েছে। ২০২৬ সালে আটটি সিরিজে টাইগাররা টেস্ট খেলবেন ১০টি, ২০ ওয়ানডে ও টি-২০ খেলবেন ১২টি। আগামী বছর বাংলাদেশ দুটি করে টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে যাবে।