নারী ফুটবলে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। কবে হবে নিশ্চয়তা নেই। সিনিয়র ১৮ ফুটবলারের ক্যাম্প বর্জন নিয়েই যত ঝামেলা। কোচের দায়িত্বে পিটার বাটলার থাকলে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবে না তা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। এখানেই তারা থেমে থাকেননি। বাফুফের সভাপতি তাবিথ তাউয়াল দেশের বাইরে থাকলেও চিঠি পাঠিয়ে একই বিষয় তুলে ধরেন ১৮ ফুটবলার। বাটলারকে পুনরায় নিয়োগ দিয়েছে বাফুফেই। এ নিয়ে যদি কেউ আপত্তি তোলেন তা চেইন অব কমান্ড ভাঙার মতো। এতে শাস্তি পাওয়াটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেই হার্ড লাইনে যায়নি। আন্দোলনকারীরা এটাও বলেছেন, সভাপতি কোচ রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিলেও তারা মানবেন না। গণ অবসরের হুমকিও দিয়েছেন সিনিয়র ফুটবলাররা।
বাংলাদেশের ফুটবলে কখনো কি সভাপতিকে এভাবে কেউ আক্রমণ করেছেন? এ তো বড় ধরনের শৃঙ্খলা ভাঙার অপরাধ। এরপরও তাবিথ আউয়াল কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেন। সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসানের নেতৃত্বে এ কমিটি সবার সঙ্গে আলাপ করে সাত দিনের মধ্যে সভাপতির কাছে রিপোর্টও জমা দেয়। এর আগে কোনো তদন্ত কমিটির এত দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নজির নেই ফুটবলে। সমস্যা নিরসনের কিছু পদক্ষেপের কথা নাকি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সভাপতিও দেরি করেননি। যেদিন রিপোর্ট পান সেদিনই ফুটবলারদের সঙ্গে একক ও দলীয়ভাবে বৈঠক করেন। তিনি চাচ্ছেন সবকিছুর অবসান। যা ঘটেছে তা দুঃখজনক বলে ফুটবলারদের ক্যাম্পে ফিরতে অনুরোধ রাখেন। এমন নমনীয় হওয়ার পরও সিনিয়ররা তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
সভাপতি উদ্যোগ নিচ্ছেন ও বিশেষ কমিটিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছেন। নারী ফুটবলারদের দেখভাল করার জন্য আলাদা নারী কমিটি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যার নেতৃত্বে রযেছেন মাহফুজা আক্তার কিরণ। যাকে উইম্যান্স উইংয়ের চেয়ারপারসন বলা হয়। প্রশ্ন উঠেছে এমন অস্থিরতায় নারী কমিটি বা কিরণ কী করছেন? সমস্যা সমাধানের তার কি কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে? সালাউদ্দিন যতদিন সভাপতি ছিলেন তখন কিরণ নাকি কাউকে পরোয়া করতেন না। এখনো নাকি তার প্রভাব যথেষ্ট। কী কারণে এত ক্ষমতাবান এ প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। নারী উইংয়ের চেয়ারপারসন হওয়ার পরও তার জায়গা হয়নি বিশেষ কমিটিতে। জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থির জন্য কিরণ দায় এড়াতে পারেন না। যাকে ঘিরে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে তার বিষয়ে মেয়েরা কিরণকে সবকিছুই নাকি খুলে বলেছিলেন। কিরণ কি তা সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি বা বাফুফের নির্বাহী কমিটির কাউকে জানিয়েছিলেন। জানালে হয়তো বা ভাবার সুযোগ থাকত।
কমিটিতে না থাকলেও নারী ফুটবলারের অভিভাবক হিসেবে বিদ্রোহীদের শান্ত করার চেষ্টা কি করেছেন কিরণ। উল্টো জ্বলন্ত আগুনে নাকি ঘি ঢালার মতো উত্তেজিত পরিবেশ তৈরি করেছেন। জাপানি প্রবাসী ফুটবলার সুমাইয়ার অভিভাবকের কাছে অনুরোধ রাখেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে না মেশার। এতে ফুটবলের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলবে। সুমাইয়া এ কথা সাবিনাদের কাছে বলার পর পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জানা গেছে, বিশেষ কমিটির রিপোর্টে কিরণের দায়িত্বহীনতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বাফুফে নাকি এখন নারী ফুটবল কমিটি নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে চেয়ারপারসনের চেয়ারে পরিবর্তন ঘটলেও অবাক হওয়া কিছু থাকবে না।