বাংলাদেশকে ফুটবলে গত কয়েক বছরে অনেক সাফল্যই এনে দিয়েছেন নারী ফুটবলাররা। বিশেষ করে গত দুবার টানা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেছেন সাবিনারা। দেশের ফুটবলে এটা ছিল অভাবনীয় ঘটনা। ফুটবল অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসা এ ফুটবলাররাই বেছে নিলেন বিদ্রোহের পথ। কারণ? কোচের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না তাঁদের। গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে বিষয়টি নজরে এসেছিল সবার। কোচ বাটলার আর সিনিয়র ফুটবলারদের মতানৈক্য ছিল স্পষ্ট। কোচ চেয়েছিলেন সিনিয়রদের ছাড়াই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যেতে। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সিনিয়র ফুটবলাররাই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশকে উপহার দেন সাফের মুকুট। কোচ ও নারী ফুটবলারদের মতপার্থক্য এতদিন অনেকটা গোপনই ছিল। কারণ, তাঁরা দীর্ঘ ছুটিতে ছিলেন। তবে নতুন করে বাটলারের সঙ্গে চুক্তির ফলে বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। দুই দিন আগে সাবিনারা বাফুফে ভবনে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। অনেকটা এক দফা দাবিই জানান তাঁরা। হয় কোচ, নয়তো ফুটবলার। অবস্থা বুঝে বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী ফুটবলাররা পরিবারের সদস্যের মতো। এরপর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যুক্তরাজ্য সফররত বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে অনলাইনে মিটিং করে বাফুফের ইমারজেন্সি কমিটি। সেখানেই বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসানকে চেয়ারম্যান করে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়। এ কমিটির ওপর বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে নারী ফুটবলারদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করবে এ কমিটি। সাত সদস্যের কমিটিতে ইমরুল হাসান ছাড়াও আছেন ফাহাদ করিম (ডেপুটি চেয়ারম্যান)। সদস্য হিসেবে আছেন ছাইদ হাছান কানন, সাখাওয়াত হোসেন ভুঁঞা, হুমায়ুন খালিদ, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও কাজী নুসরাত এদিব লুনা। গতকাল বাফুফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান বলেন, ‘ফুটবলকে কারো কাছে জিম্মি রাখা যাবে না।’
এ কমিটির ওপর দায়িত্ব অনেক। একদিকে দেশকে টানা দুটি সাফ শিরোপা উপহার দেওয়া নারী ফুটবলাররা, অন্যদিকে যোগ্য একজন কোচ। বাটলারের ওপর বাফুফেরও আস্থা আছে। এ কারণেই নতুন করে চুক্তি করেছে। ফুটবল অঙ্গনে নারী ফুটবলারদের বিদ্রোহ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। নারী ফুটবলারদের দাবি মেনে নিয়ে কোচ ছাঁটাই করলে যেমন খারাপ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে, তেমন দেশকে টানা দুটি সাফ এনে দেওয়া মেয়েদের সম্মান বজায় রাখাটাও জরুরি।
সামনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা। শারজাহতে ম্যাচ দুটি ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ২ মার্চ। আরব আমিরাতের মেয়েরা বাংলাদেশের চেয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে। বাংলাদেশের মেয়েরা ১৩২ নম্বরে। আরব আমিরাত ১১৬ নম্বরে।