মঙ্গলের অভ্যন্তরে সংঘর্ষের বড় আকারের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন নাসা বিজ্ঞানীরা । এই টুকরোগুলি মঙ্গলগ্রহের ম্যান্টলে (অন্তঃস্থ স্তর) পুঁথি হয়ে সঞ্চিত ছিল।বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর আগের সংঘর্ষের চিহ্ন হিসেবে এটি রয়ে গেছে।
নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার মিশনের তথ্য ব্যবহার করে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলগ্রহের অভ্যন্তরে মাটি ও শিলা দিয়ে গঠিত বড় বড় টুকরোগুলি পাওয়া গেছে, যার কিছু কিছু প্রস্থে ২.৫ মাইল পর্যন্ত। এই আবিষ্কারটি মঙ্গলগ্রহের প্রাচীন ইতিহাসের সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছে।
গবেষণাটি সম্প্রতি একটি বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এতে মঙ্গলগ্রহে ৮টি ভূমিকম্পের (মার্সকোয়েক) মাধ্যমে পাওয়া সিসমিক (তড়িত তরঙ্গ) তথ্য ব্যবহার করে মঙ্গলগ্রহের অভ্যন্তরে থাকা টুকরোগুলির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তথ্যের মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহের ভিতরের স্তরের গঠন ও উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে।
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পৃথিবীতে প্লেট টেকটনিক্স (ভূ-তাত্ত্বিক কার্যক্রম) থাকায় প্রাচীন সংঘর্ষের চিহ্ন ধীরে ধীরে মুছে যায়। কিন্তু মঙ্গলগ্রহে প্লেট টেকটনিক্স নেই, তাই সেখানে এই চিহ্নগুলো অক্ষত (অপরিবর্তিত) রয়েছে। এর ফলে মঙ্গলগ্রহের অভ্যন্তরীণ স্তরের তথ্য যেন একটি সময়ের ক্যাপসুলের (time capsule) মতো কাজ করছে, যা গ্রহটির প্রাচীন ইতিহাস তুলে ধরে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইনসাইট মিশন পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে ১৩০০টিরও বেশি মার্সকোয়েক রেকর্ড করা হয়। এই সিসমিক তরঙ্গগুলোর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহের অভ্যন্তরের গঠন ও উপাদান জানার চেষ্টা করেছেন।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মঙ্গলের অভ্যন্তরে থাকা এই প্রাচীন টুকরোগুলির প্রমাণ পৃথিবীতে হয়তো আর পাওয়া যেত না, কারণ সেখানে এই ধরনের প্রমাণ অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল