জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত ‘মাউন্ট ফুজি’ জয় করলেন বাংলাদেশি তরুণ ইকবাল বিন রশিদ। ইকবালের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাকই ইউনিয়নের কোঁয়ার গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের পোদ্দার বাড়ির আবদুর রশিদ ও আয়েশা বেগমের ছেলে। জাপানে পাড়ি দেওয়ার এক বছরের মধ্যে তিনি মাউন্ট ফুজিতে আরোহণ করে অনন্য স্বপ্ন পূরণ করলেন। ইকবাল ভ্রমণপিপাসু তরুণ।
তার স্বপ্ন ছিল জাপানের সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় ওঠার। ২০২৩ সালে একটি ভিডিও দেখে মাউন্ট ফুজিতে ওঠার প্রস্তুতি নেন। রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে হনসু দ্বীপে তুষারাবৃত সুউচ্চ ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজির অবস্থান। এটি জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি ও পর্বতশৃঙ্গ। যার উচ্চতা ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার বা ১২ হাজার ৩৮৯ ফুট। শুধু তাই নয়, এটি এশিয়ার যে কোনো দ্বীপে অবস্থিত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি (ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মাউন্ট কেরিন্সির পরে) এবং পৃথিবীর যে কোনো দ্বীপে অবস্থিত সপ্তম সর্বোচ্চ শিখর। এটি জাপানের জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক ও বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত। ইকবাল ২০২৪ সালে জাপানে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি জাপানের কোবে সিটিতে কিয়োশিন ল্যাংগুয়েজ একাডেমিতে অধ্যয়নরত। তিনি গত ৭ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় পর্বতের নিচ থেকে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন। দুর্ভেদ্য কাজ, নতুন অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ পর্বতের চূড়ায় অবস্থান। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬.৫০ ঘটিকায় তিনি মাউন্ট ফুজির চূড়ায় ওঠেন। উড়ান লাল-সবুজের পতাকা। এই গর্বের মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন তিনি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ইকবাল বিন রশিদ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি ভ্রমণ পছন্দ করি। আমার স্বপ্ন ছিল জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজির চূড়ায় উঠে লাল-সবুজের পতাকা উড়াব এবং নয়ন ভরে পর্বতটি উপভোগ করব। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি গর্বিত যে, আমার স্বপ্ন-আশা পূরণ হয়েছে।’ সুযোগ হলে পুরো বিশ্ব ভ্রমণের কথাও জানান তিনি।