জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে নতুন আরও তিনটি প্যানেল আত্মপ্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি-সংলগ্ন ‘সংশপ্তক’ ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ নামে প্যানেল ঘোষণা করেন অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী প্রাপ্তি তাপসী। এতে ছাত্র ইউনিয়নের (অদ্রি-অর্ক) একাংশ, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, ইন্ডেজেনাস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সংগঠনের মধ্যে জোট গঠন করা হয়। ছাত্র ইউনিয়ন জাবি শাখার সাবেক সভাপতি অমর্ত্য রায়কে সহসভাপতি (ভিপি) এবং সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি শরণ এহসানকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মনোনীত করা হয়েছে। ‘সংশপ্তক’ নামে আংশিক একটি প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্র ইউনিয়ন (ইমন-তানজিম)-এর আরেকটি অংশ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার নেতা-কর্মীরা। এতে তারা কেন্দ্রীয় পাঁচটি পদে প্রার্থিতা দিয়েছে। এ প্যানেলে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জাবি ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া। এ ছাড়া ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ নামে পৃথক একটি প্যানেল ঘোষণা করেন জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইসলাম মেঘ। তিনি ওই প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এ নিয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাকসু নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৭টি প্যানেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভোটযুদ্ধে অংশ নেবেন। বাকি প্যানেলগুলো হলো জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’, ছাত্রশিবিরের ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত জোট’।
হলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীরা জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে শুক্রবার বিকাল থেকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে এখনো হলে অবস্থান করছেন ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীরা। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন জাকসু প্রার্থীরা।
জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবাসিক হলে অবস্থান না করার নির্দেশ দেয়। নোটিস পাওয়ার পর ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা চলে গেলেও ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অনেক শিক্ষার্থী এখনো হলে অবস্থান করছেন। দেরিতে সিট পাওয়া বা দীর্ঘদিন গণরুমে থাকার কারণে তারা আরও কিছুদিন হলে থাকতে চান। গত ২৫ আগস্ট উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রশাসনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তারা অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি চান। তারা আশ্বাস দেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় হলে অবস্থান করবেন না।
এর আগে, ১৬ আগস্ট বিকালের মধ্যে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের হতে নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরদিন আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে অভিযান চালিয়ে কিছু কক্ষ সিলগালা করে। তখন শিক্ষার্থীরা এতে বাধা দেন। এমনকি তালা ভেঙে পুনরায় রুমে প্রবেশের ঘটনাও ঘটে। সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ে প্রশাসনকে চুপ থাকতে হয়। নইলে সেটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইন্টারফেয়ারেন্স হয়ে যাবে। তবে কমিশন চাইলে অবশ্যই সহযোগিতা করব।’