বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার সুস্বাদু সন্দেশের খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ সন্দেশ এখন যাচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকায়।
নগরী থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের পাশে গুঠিয়া বাজারে এ সন্দেশ তৈরি করা হয়। ৬২ বছর আগে একজন এ সন্দেশ তৈরি শুরু করেন। সুস্বাদু এ সন্দেশের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ায় এখন আরও অন্তত পাঁচজন এ সন্দেশ তৈরি করেন। স্বাদে অতুলনীয় এ সন্দেশ খেতে মিষ্টান্নপ্রেমীরা ছুটে আসেন গুঠিয়ায়। স্থানীয়রা জানান, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া থেকে সন্দেশ তৈরির কৌশল শিখে আসেন সতীশচন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তি। কৌশলের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি ১৯৬২ সালে তৈরি করেন এ সন্দেশ; যা এখন ‘গুঠিয়ার সন্দেশ’ নামে পরিচিত। পরে তিনি কলকাতায় ফিরে যান। তার সন্দেশ তৈরির কৌশল রপ্ত করে আরও কয়েকজন সন্দেশ তৈরি করেন। এর মধ্যে স্থানীয় বাদশা হাওলাদার একই গুণমান বজায় রেখে সন্দেশ তৈরি শুরু করেন। তার মৃত্যুর পর বর্তমানে তার ছেলে শাওন হাওলাদারসহ আরও পাঁচজন সন্দেশ তৈরি করছেন। বাদশা মিয়ার মিষ্টির দোকানের পাশের মুদি দোকানি আবুল হোসেন বলেন, ‘গুঠিয়ার বাদশা মিয়ার সন্দেশ ঐতিহ্যবাহী। তার তৈরি সন্দেশ লন্ডন, আমেরিকা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে যায়। এ ছাড়া দেশের সব এলাকায় গুঠিয়ার সন্দেশ বিক্রির জন্য নেওয়া হয়।’ বাদশা মিয়ার দোকানের কারিগর মো. জসীম বলেন, ‘খাঁটি গরুর দুধে তৈরি ছানা ও চিনি দিয়ে সন্দেশ তৈরি করা হয়। প্রতিদিন ৫০ কেজি ছানার সন্দেশ তৈরি করা হয়। প্রতিটি সন্দেশের ওপর কিশমিশ দেওয়া হয়। সন্দেশে কাঁচা দুধের ঘ্রাণ আসে; যার কারণে মানুষের কাছে জনপ্রিয় গুঠিয়ার সন্দেশ। এ রকম অতুলনীয় স্বাদের সন্দেশ আর কোথাও তৈরি হয় না। চিনি ছাড়া গুড় দিয়েও এখানে সন্দেশ তৈরি করা হয়।’