বগুড়ার বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা দুই নারীর লাশের পরিচয় নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। একজনের লাশ শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের গণ্ডগ্রাম ও অন্যজনের লাশ নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম বেড়াগাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর নয় মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ মে পুলিশ আশেকপুর ইউনিয়নের গণ্ডগ্রামের আদি কালীবাড়িসংলগ্ন রতনচন্দ্র বিশ্বাসের বাঁশঝাড় থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় একজন নারীর লাশ উদ্ধার করে। তখন তার গলা ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। আনুমানিক ২২ বছর বয়সি মেয়েটির পরনে লাল-গোলাপি-সাদা প্রিন্টের জামা ছিল। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তবে পুলিশ তার পরিচয় উদ্ঘাটন করতে না পেরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দক্ষিণ বগুড়া গোরস্থানে দাফন করে। সেইসঙ্গে আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। কিন্তু আদালত তা গ্রহণ না করে পুনরায় মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি বগুড়াকে নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি বগুড়ার এসআই মো. আবদুল করিম বলেন, ‘২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর নয় মাসেও তার পরিচয় মেলেনি। মৃত্যুরহস্য ও পরিচয় উদ্ঘাটনে সিআইডি কাজ শুরু করেছে।’ অন্যদিকে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম বেড়াগাড়ী এলাকার কোয়ালিটি ফিডের দক্ষিণপাশে সরিষা খেতের আইল থেকে একজন নারীর লাশ উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। তার পরনে কালো বোরকা ও খয়েরি রঙের ওড়না ছিল। বয়স ২২-২৩ বছর। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। লাশ উদ্ধারের পর ফরিদপুরের এক বৃদ্ধা এসে তাদের মেয়ে বলে শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ লাশ হস্তান্তর করলে তারা ফরিদপুরে নিয়ে দাফন করেন। পরে জানা যায়, ওই নারী তাদের কেউ ছিলেন না। ওই বয়সি নিখোঁজ তাদের মেয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান তারা। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নিখোঁজ ওই নারীর পরিচয় বের করার জন্য সিআইডি বগুড়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সিআইডি বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুই নারীর পরিচয় উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। কে বা কারা তাদের হত্যা করে বগুড়ায় ফেলে গেছে সে বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।