‘মিনি বিশ্বকাপ’ নামে পরিচিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফের মাঠে গড়াচ্ছে ২০১৭ সালের পর। এবারের আসরে পাকিস্তানের মাটিতে খেলবে না ভারত। ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান হলেও খেলা হবে লাহোর নয়, দুবাইয়ে। ভারত নিজেদের সব ম্যাচ খেলবে ‘মরুরাজ্য’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। আইসিসির যে কোনো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অধিনায়কের ট্রফি নিয়ে যে ফটোসেশন হয়, ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা উপস্থিত থাকবেন না বলে সেটাও বাতিল করেছে আইসিসি। ভারতের অনীহায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের সহযোগী আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেজন্য হয়তো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) লাহোর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ছাদে সাত দেশের পতাকা উড়িয়েছে। শুধু নেই ভারতের পতাকা। এমন পরিস্থিতিতে নি-িদ্র নিরাপত্তায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসর শুরু হচ্ছে আজ। করাচি ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
আট দলের টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। ২০১৭ সালে সর্বশেষ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। ফাইনালে হারিয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে। এরপর গত আট বছর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসসহ অন্যান্য কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজন করেনি আইসিসি। এবার টুর্নামেন্টটিতে অংশ নিচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দিল্লিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। এবারের আসরে খেলছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ছাড়াও বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৯ মার্চ। ৪ মার্চ প্রথম সেমিফাইনাল দুবাই এবং ৫ মার্চ দ্বিতীয় সেমিফাইনাল লাহোরে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলছে ষষ্ঠবার। অভিষেক হচ্ছে আফগানিস্তানের। দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। অবশ্য ভারত একবার যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের সর্বশেষ আসরে সেমিফাইনাল খেলেছিল টাইগাররা। আগামীকাল দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন। নাজমুল বাহিনীর পরের দুটি ম্যাচ রাওয়ালপিন্ডিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের জয় ১২ ম্যাচে দুটি। সবচেয়ে বেশি ১৮ জয় ভারতের। ১৪টি করে জয় শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের। অস্ট্রেলিয়ার জয় ১২ এবং পাকিস্তানের ১১টি। এবার চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশের টাকায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা। রানার্সআপ প্রাইজমানি ১.১২ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা। দুই সেমিফাইনালিস্ট দল পাবে ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ৬ কোটি ৭৮ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ১ লাখ ২১ হাজার মার্কিন ডলার।