বসন্ত বাতাসে দোল খাচ্ছে হাঁড়িভাঙা আমের মুকুল। এই আম ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। রংপুরের ঐতিহ্য হাঁড়িভাঙা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও। কৃষি বিভাগ এই আম সংক্ষণের পদ্ধতি বের করতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, গাছে গাছে দুলছে মুকুল। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ছে ঘ্রাণ। মুকুলে সোনালি রং ধারণ করায় চারপাশ সেজেছে অপরূপ সাজে। রংপুরে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে ১০ মেট্রিক টনের বেশি ফলন হয়। বর্তমানে মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার যেদিকে চোখ যাবে সেদিকেই হাঁড়িভাঙা আমের বাগান। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে ম ম গন্ধ। মিঠাপুকুরের ময়েনপুর, আখিরারহাট, মাঠের হাট, খোড়াগাছ, বদরগঞ্জের শ্যামপুর, রংপুর সদরের কিছু এলাকায় কয়েক হাজার আমের বাগান রয়েছে। মিঠাপুকুর ময়েনপুরের তরুণ উদ্যোক্তা আম চাষি শাহিনুল ইসলাম বকুল বলেন, সুমিষ্ট এই আম পাকলে তিন-চার দিনের মধ্যে খেতে হয়। তা না হলে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি বিভাগ এই আম সংক্ষণের পদ্ধতি বের করতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।
সচেতন মহল মনে করেন, এই আম সংরক্ষণ করতে পারলে চাষিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এই সুস্বাদু আমের স্বাদ আরও অনেকেই নিতে পারবেন। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, হাঁড়িভাঙা আম ১ হাজার ৯০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে প্রায় ১০-১২ মেট্রিক টন ফলন হয়। যার মূল্য প্রায় ৩০০-৪০০ কোটি টাকার বেশি। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ওবায়দুর রহমান ম ল বলেন, প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আম ঘিরে রংপুরের কৃষি অর্থনীতি চাঙা হয়। এ বছর আমের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে।