৭৮১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অসাধু উপায়ে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনপূর্বক নিজ দখলে রাখার অপরাধে দুর্নীতি কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা করেছে দুদক।
এর আগে পৃথক দুই হত্যা মামলায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলাম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছেলে শাফি মোদ্দাসের খান জ্যোতির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ধানমন্ডি ও যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় নজরুল ইসলামের ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। সেই রিমান্ড শুনানির জন্য গতকাল তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনের পক্ষে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী রিমান্ড বাতিলসহ জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই মামলায় তার পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে ধানমন্ডি থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় শাফি মোদ্দাসের খান জ্যোতির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ধানমন্ডি থানার মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে মিছিলে অংশ নেয় শিক্ষার্থী শামীম (১৩)। মিছিলটি কলাবাগান এলাকায় পৌঁছলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অতর্কিত আক্রমণে আহত হয় শামীম। এরপর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে পরের দিন ৬ আগস্ট চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় ৩ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৮ জনের নামে হত্যা মামলা করেন নিহতের মা জাহানারা বেগম। অপরিদকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার চিটাগাং রোডে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ইমন হোসেন গাজী নামের এক যুবক। এ ঘটনায় তার ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২৮ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় ৮৫ জনের নামোল্লেখ করে মামলা করেন।