শিক্ষার্থীদের আপত্তি উপেক্ষা করে সিন্ডিকেট সভা করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে বিক্ষোভ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনার পর দশ দফা দাবি পূরণ না হলে আজ রবিবার থেকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সিন্ডিকেট সভা বয়কট করেন উপ-উপাচার্য ড. গোলাম রাব্বানী, ট্রেজারার ড. মো. মামুন অর রশিদ ও অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দীন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, আওয়ামী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গোপন সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন উপাচার্য। এ খবরে দুপুরের পর থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। পরে বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে উপাচার্যের
বাসভবনের গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাসভবনের ভিতরে সহকারী প্রক্টর মারুফা আক্তারের সঙ্গে কয়েক দফায় কথা বলেন শিক্ষার্থীরা। সহকারী প্রক্টর মারুফা আক্তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রক্টর অফিসে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জবাবে শিক্ষার্থীরা তাতে সাড়া দেয়নি। পরে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে সময়সীমা নির্ধারণ করে সংবাদ সম্মেলন করে দশ দফা দাবি জানিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসেন তারা। তবে ফ্যাসিস্টদের ও ফ্যাসিস্ট দালাল মুক্ত না করা পর্যন্ত রবিবার থেকে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে সভা বয়কট করায় তিনজনের দেওয়া চিঠি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা সিন্ডিকেট সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয়। পরবর্তীতে তিনিসহ তিনজন সিন্ডিকেট সভা প্রত্যাখ্যান করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন সাংবাদিকদের বলেন, গুটিকয়েক শিক্ষার্থী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীলের চেষ্টা করছেন। তারা সাধারণ কোনো শিক্ষার্থী নন জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তারা আজকে যে কাজ করেছে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত হবে বলে জানান তিনি।