বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক এক্সপো-ভিলেজ ‘আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশ’-এ শুরু হয়েছে ১৭তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা। গতকাল রাজধানীর আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন এ মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, সার্ক চেম্বার কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন বলেন, প্লাস্টিক ভালোও আছে আবার খারাপও আছে। তবে আমাদের করণীয় হচ্ছে এ ভালো প্লাস্টিককে প্রমোট করা। পরিবেশের জন্য যে প্লাস্টিকগুলো খারাপ তা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। একই সঙ্গে পাটসহ অন্যান্য যে সম্ভাবনাময় পণ্য রয়েছে এসবের ব্যবহার বাড়ানো। যেসব পণ্যে প্যাকেজিং ছাড়া ব্যবহার করা যায়, সেগুলোকে প্যাকেজিং ছাড়াই ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক চেম্বার কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্লাস্টিক ছাড়া কোনো কিছু চিন্তা করা যায় না। মোটামুটি সবকিছুতেই প্লাস্টিক ব্যবহার হয়, এমনকি কাপড় তৈরিতে পর্যন্ত প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়ে থাকে। মোটকথা একটি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায় প্লাস্টিকের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে।
এ মেলায় দেশি-বিদেশি ৮ শতাধিক স্টল রয়েছে। এতে স্বাগতিক বাংলাদেশ, চীন, জার্মানি, ভারত, ইতালি, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ) এবং হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়োকার্স ট্রেড অ্যান্ড মার্কেটিং সার্ভিস যৌথভাবে মেলাটির আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সুবিশাল ‘আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশ’-এ। এই এক্সপো ভিলেজটির আয়তন ১ লাখ ৩৪ হাজার বর্গফুট। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ বহুমুখী ভেন্যুটিতে একই ছাদের নিচে মেলা, প্রদর্শনী, সমাবর্তন, সেমিনার, এজিএম, করপোরেট রিট্রিট, কনসার্ট, বিয়ে, পরীক্ষার হল, বাইক, কার-শোসহ যে কোনো ধরনের ছোট থেকে বড় করপোরেট, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান স্বাচ্ছন্দ্যে করা যাচ্ছে। একই ছাদের নিচে এত বড় জনসমাগমস্থল বাংলাদেশে আর নেই, যেখানে ১০ হাজার জনেরও বেশি লোক একসঙ্গে সমাগম করা সম্ভব। আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশে সমাবর্তন ও কনফারেন্সে ১০ হাজার লোক, কনসার্টে ১২ হাজার লোক, বিয়ের অনুষ্ঠানে ৯ হাজার লোকসহ যে কোনো অনুষ্ঠান করা সম্ভব। এ এক্সপো ভিলেজের সঙ্গে রয়েছে সহস্রাধিক গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, নিজস্ব বিদ্যুতের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এ এক্সপো ভিলেজটি সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। আইসিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) এম এম জসীম উদ্দীন বলেন, আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শেড। এখানে শুধু এক্সিবিউশন নয়, বিভিন্ন ধরনের সমাবেশ, সমাবর্তন, পরীক্ষার হল, মেলাসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা যেতে পারে। এটি বাংলাদেশ তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে বড় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শেড। তিনি বলেন, এখানে সুপরিসর ওয়াশরুম ব্যবস্থা রয়েছে, সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের নিজস্ব বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা রয়েছে এবং বিকল্প বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে। আইসিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার বলেন, এক্সপো ভিলেজে সুবিধার জন্য বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট রয়েছে। এর মধ্যে টেন্টের চারদিকে রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে মালামাল ওঠা-নামানোর সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তিনি বলেন, এই টেন্টটির উচ্চতা অন্যান্য টেন্ট থেকে অনেক বেশি। এর উচ্চতা ১৩ মিটারের বেশি। এ কারণে এখানে যে কোনো ধরনের কাজ করা সম্ভব। এমনকি ক্রেন ব্যবহার করে কাজ করা সম্ভব।