শিক্ষা উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান চার বছরের স্নাতক (অনার্স) কোর্সকে তিন বছর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাকি এক বছর বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দুটি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। শিক্ষাজীবন শেষ করে শিক্ষার্থীরা যাতে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভালো ভালো চাকরি করতে পারেন। গতকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন (বিএনসিইউ) এবং ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এম আমিনুল ইসলাম বলেন, একটা অনার্সের সার্টিফিকেট দেওয়া হবে; আরেকটা ডিপ্লোমার সার্টিফিকেট দেওয়া হবে, যে সার্টিফিকেটটা ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে সবার কাছে। তার অনার্স পড়ার যে স্বপ্ন তাও ঠিক থাকল, আর ভালো চাকরিও তারা পাবে। নতুন ব্যবস্থায় কর্মসংস্থানে বেগ পেতে হবে না বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। আমিনুল ইসলামের ভাষায়, মনে হয় একটা অভিনব-অসাধারণ সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে জানিয়ে অধ্যাপক আমিনুল বলেন, যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল দেশের জন্য, সেটা সবচেয়ে অনুন্নত অবস্থায় আছে। তাদের যে শিক্ষক দরকার, তার ১৮ পারসেন্ট রয়েছে। তাদের প্র্যাক্টিক্যাল ও থিওরি আছে। প্র্যাক্টিক্যালের জন্য ল্যাবরেটরি নাই, ট্রেইনার নাই, টিচার নাই। তাই থিওরি পড়িয়ে দেওয়া হয়, পরে ভাইভা নেওয়া হয়। প্র্যাক্টিক্যাল করানোই হয় না, কিন্তু তার ভিত্তিতেই সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হয়। এটার আমূল পরিবর্তন করা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সেক্রেটারি জেনারেল সিদ্দিক জোবায়েরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, হেড অব অফিস অ্যান্ড ইউনেস্কো রিপ্রেজেনটেটিভ টু বাংলাদেশ সুজান ভাইজ প্রমুখ।