পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় তার বিরুদ্ধে মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডকে ব্রোকার হাউসের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। এদিকে, একই মামলায় গতকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দুদকের ওই মামলায় শিবলী ছাড়াও আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন মোনার্ক হোল্ডিং ইনকরপোরেশনের চেয়ারম্যান জাবেদ এ মতিন, ঝিল বাংলা ফেব্রিক্সের মালিক আরিফুল ইসলাম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এফএভিপি ইসরাত জাহান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখার অপারেশন ম্যানেজার ইকবাল হোসেন, ব্যাংকটির এসইভিপি, অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ডিপার্টমেন্ট ও সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ। দুদক বলছে, শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া বাড়ি ভাড়ার চুক্তিনামা দেখিয়ে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং ভুয়া পণ্য বিক্রির চুক্তি দেখিয়ে পণ্য রপ্তানির কৌশলে ১ কোটি ৮৪ লাখ ২৮ হাজার ৮২০ টাকাসহ ৩ কোটি ৭৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। শিবলী ২০২০ সালে ১৭ মে থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ের মধ্যেই তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোনার্ক হোল্ডিং ইনক থেকে অর্থ আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। আর ২০২০ সালের জুলাই মাসে সাউথইস্ট ব্যাংকে তার ওই অ্যাকাউন্টে মোনার্কের ব্যাংক হিসাব থেকে চারটি ট্রানজেকশনে মোট ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা জমা হয়। শিবলী ২০২০ সালের ১৩ জুলাই ওই অর্থ উত্তোলন করেন। ব্যাংকের রেমিট্যান্স ঘোষণা ফরমে তিনি ওই অর্থকে পারিবারিক খরচ ঘোষণা করেন।
এদিকে, মামলার এজহারে বলা হয়েছে, ঘুষকে বৈধতা দেওয়ার জন্য মোনার্ক হোল্ডিং ইনকরপোরেশনের চেয়ারম্যান জাভেদ এ মতিনের সঙ্গে একটি ভুয়া বাড়ি ভাড়া চুক্তি করেন শিবলী। পরে শিবলী মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড নামে ২০২১ সালের ডিসেম্বর ব্রোকার হাউসের লাইসেন্স প্রদান করেন। এ ছাড়া আরিফুল ইসলামের ঝিল বাংলা ফেব্রিক্স নামে ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে শিবলীর সাভারের বাড়ির ঠিকানায় নিজ নামে ব্যবসার অনুমোদন গ্রহণ করেন। ঝিল বাংলা ফেব্রিক্স নামে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হিসাব পরিচালনাকারী শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ঝিল বাংলা ফেব্রিক্স ২০২০ সালে জুলাই মাসে মোনার্ক হোল্ডিংস ইনকের সঙ্গে চুক্তি করে। যেখানে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে শিপমেন্টে ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার এবং ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের শিপমেন্টে ২ লাখ ১৬ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির কথা বলা হয়। ঝিল বাংলা ফেব্রিক্সের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি দিলকুশা শাখার ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের ১৭ জুলাই ২ লাখ ১৬ হাজার মার্কিন ডলার ও ২০ জুলাই ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলারসহ মোট ৩ লাখ ৬১ হাজার ডলার বা প্রায় ৩ কোটি ৬ লাখ ২৭ হাজার ২৪০ টাকা জমা হয়।